আদিম মানবের বিভিন্ন প্রজাতি পেরিয়ে তবে আজকের হোমো স্যাপিয়েন্সদের আগমন। আর এই যাত্রাপথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ান্ডারথাল মানুষরা। কিন্তু কেন তারা আচমকাই হারিয়ে গিয়েছিল? এনিয়ে আজও গবেষণার শেষ নেই। পাশাপাশি সমাধান হয়নি আরেক রহস্যেরও। নিয়ান্ডারথাল মানব ও আদিম মানবীদের নিয়মিত যৌন সঙ্গমের পরও কেন আজ আর মানুষের এক্স ক্রোমোজোমে নিয়ান্ডারথালদের কোনও অস্তিত্ব নেই! সম্প্রতি এই বিষয়ে আলো ফেলেছে এক গবেষণাপত্র।
বিখ্যাত জার্নাল 'সায়েন্স'-এ প্রকাশিত হয়েছে ওই গবেষণাপত্র। যেখান থেকে উঠে আসছে এক নতুন সম্ভাবনা। আজ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার বছরের মধ্যে নিয়ান্ডারথাল মানুষদের সঙ্গে হোমো স্যাপিয়েন্সদের মেলামেশা ছিল। বর্তমানে আফ্রিকার বাইরের সমস্ত মানুষের শরীরে রয়েছে প্রায় দুই শতাংশ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ। কিন্তু তবুও একটা ধাঁধার কিছুতেই সমাধান করতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। তা হল, মানুষের এক্স ক্রোমোজোমে নিয়ান্ডারথালদের কোনও চিহ্ন নেই কেন? এতদিন মনে করা হত, নিয়ান্ডারথালদের জিনে থাকা এক্স ক্রোমোজোম অত্যন্ত ক্ষতিকর। যা শারীরিক ক্ষতি ও বন্ধ্যাত্বের কারণ হত। সেই কারণেই মানুষের জনসংখ্যা যত বেড়েছে, ততই ওই এক্স ক্রোমোজোম নিশ্চিহ্ন হয়েছে।
নিয়ান্ডারথাল মানব ও আদিম মানবীদের নিয়মিত যৌন সঙ্গমের পরও কেন আজ আর মানুষের এক্স ক্রোমোজোমে নিয়ান্ডারথালদের কোনও অস্তিত্ব নেই! সম্প্রতি এই বিষয়ে আলো ফেলেছে এক গবেষণাপত্র।
কিন্তু নতুন গবেষণা এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ওই গবেষণা করছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন গবেষক আলেকজান্ডার প্ল্যাট। ওই দল নিয়ান্ডারথাল ফসিলস থেকে জিনগত তথ্য বের করে তা তুলনা করে দেখেছে আধুনিক মানুষের ডিএনএ-র সঙ্গে। আর তাঁরা দেখেছেন, নিয়ান্ডারথালদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে মানুষের ডিএনএ এবং তাদের এক্স ক্রোমোজোম রয়েছে। যদি নিয়ান্ডারথাল ও হোমো স্যাপিয়েন্সদের মধ্যে শারীরিক আদানপ্রদান বন্ধ রাখত, এটা সম্ভব হত না।
মনে রাখতে হবে, নারীর আছে দু'টি ক্রোমোজোম। দু'টিই এক্স। পুরুষদের একটি এক্স ও একটি ওয়াই। সমস্ত সন্তানরা মায়ের এক্স ক্রোমোজোম পায়। অন্যদিকে বাবার এক্স পায় মেয়েরা। ওয়াই পায় ছেলেরা। কোনও নিয়ান্ডারথাল মানব ও আদিম মানবীর সঙ্গমে সন্তান হলে সেখানে ছেলেদের ওয়াই ক্রোমোজোম আসত নিয়ান্ডারথাল বাবার থেকে। এবং এক্স ক্রোমোজোম আসত মানবী মায়ের থেকে। অর্থাৎ তাদের শরীরে কোনও নিয়ান্ডারথাল এক্স ক্রোমোজোম থাকতই না। আর বাস্তবটা তেমনই। যা থেকে মনে করা হচ্ছে, সম্ভবত নিয়ান্ডারথাল পুরুষরাই মূলত আদিম মানবীদের সঙ্গে মিলিত হত। উলটোটা সেভাবে ঘটত না।
এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই গবেষণার পরবর্তী ধাপে পৌঁছতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। মনে করা হচ্ছে, আদিম সমাজ কীভাবে গঠিত হত, সেখানে যৌনতার প্রকৃতিই বা কেমন ছিল সেসব বুঝতে সাহায্য করবে জিনের গভীরে থাকা এই সব খুঁটিনাটি। আপাতত সেটাই আরও ভালো করে বুঝতে চাইছেন গবেষকরা।
