এ যেন ঘোর কলি! চিলির আটাকামা মরুভূমি মুখ ঢাকল শ্বেতশুভ্র তুষারে। পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক অঞ্চলে দেখা গেল এমনই আশ্চর্য দৃশ্য। নাসার কৃত্রিম উপগ্রহে তোলা চিত্র ভাইরাল হয়ে গিয়েছে কার্যত। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, মরু অঞ্চলে তুষারপাত বিরল নয়। গত বছরের জুনেও আটাকামাতেই বরফ পড়েছিল। কিন্তু সচরাচর যা ঘটে না, তা ঘটলে বিস্ময়ের উদ্রেক করবেই। প্রশ্ন উঠছে, কেন হঠাৎ হলুদ বালুরাশির শরীর ঢেকে গেল সাদা তুষারের আচ্ছাদনে?
মরুভূমিতে কেন তুষারপাত হল, প্রশ্নটির উত্তর লুকিয়ে আছে বায়ুমণ্ডলের এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, আগস্টে, শীতকালীন ঝড়ের লাগাতার প্রকোপে উত্তর চিলির বিশাল অংশ জুড়ে তুষার নিয়ে আসে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আলমাও ঢেকে যায় পুরু বরফে। এরপর ফের একটি ঝড় আসে, যার জেরে পশ্চিম দিকেও বরফ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আটাকামার অধিকাংশ অঞ্চলেই এখন বরফের চাদর।
ওই তুষারঝড়ের পাশাপাশি চিলির উপকূলে এবার বৃষ্টিও হয়েছে ব্যাপক। প্রচুর জলীয় বাষ্পের কারণেই স্বাভাবিক কারণে যার মাত্রা ছিল রীতিমতো রেকর্ড পরিমাণ। উদাহরণস্বরূপ, তিনদিনে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে তালতালে। যা চিলির এই শহরে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দশ গুণ! শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। যার জেরে উপক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উচ্চচাপ ব্যবস্থাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঝড়ের গতিপথ উত্তর চিলির আরও কাছে সরে আসে।
প্রসঙ্গত, এই দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে পড়ছে সাহারা মরুভূমিতে তুষারপাতের ঘটনা! ৩৬ লক্ষ বর্গ মাইল জুড়ে সাদা বরফের চাদর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন নেটিজেনরা। সবথেকে মনোহর নিঃসন্দেহে সাদা মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা উটের ছবি। সাহারায় প্রথমবার বরফ পড়তে দেখা গিয়েছিল ১৯৭৯ সালে। কিন্তু পরবর্তী সাড়ে তিন দশকে আর বরফ পড়েনি সেখানে। কিন্তু গত ২০১৬ সাল থেকে এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে বারবার।
