ভারত (প্রথম ইনিংস)- ৬২২/৯ ডিঃ (পূজারা ১৩৩, রাহানে ১৩২, হেরাথ ৪/১৫৪)
শ্রীলঙ্কা (প্রথম ইনিংস)- ১৮৩ অল আউট (ডিকেওয়ালা ৫১, অশ্বিন ৫/৬৯)
শ্রীলঙ্কা (দ্বিতীয় ইনিংস)- ৬০ ওভারে ২০৯/২ (কুশল মেন্ডিস ১১০, করুণারত্নে ৯২*, পাণ্ডিয়া ১/১২)
দেবাশিস সেন, কলম্বো: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টের পুনরাবৃত্তিই যেন ঘটছে কলম্বোয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও টিম ইন্ডিয়ার দাপটে ধরাশায়ী লঙ্কা ব্রিগেড। তবে গল টেস্টের সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের একটাই পার্থক্য, ওই ম্যাচে সুযোগ পেয়েও শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করাননি বিরাট। যার জন্য তাঁর কম সমালোচনা হয়নি। তবে এদিন আর সেই ভুল করলেন না। শনিবার টেস্টের তৃতীয় দিনে ১৮৩ রানে রঙ্গনা হেরাথরা অলআউট হওয়ার পর তাঁদের পুনরায় ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বিরাট। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত লড়াই করছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। দিনের শেষে তাঁদের রান দু’উইকেটে ২০৯। ১১০ রান করে কুশল মেন্ডিস আউট হলেও ক্রিজে রয়েছেন ওপেনার করুণারত্নে (৯২) ও পুষ্পাকুমারা(৫)। শ্রীলঙ্কা পিছিয়ে ২৩০ রানে।
[শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নজির গড়লেন জাদেজা]
তিনশোরও বেশি রানে এগিয়ে থেকে কেন শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করালেন না ক্যাপ্টেন কোহলি? গল টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে টিম ইন্ডিয়াকে নামতে দেখে এমন প্রশ্নই তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে বিরাটের সাফাই ছিল গলে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। তবে কলম্বোয় রঙ্গনা হেরাথদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। আর তাই এবার ফলো-অন করানো নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি দলনেতা। এদিকে, দ্বিতীয় দিনের শেষে ২ উইকেট খুইয়ে ৫০ রান করেছিল লঙ্কাবাহিনী। সেখান থেকে শনিবার লাঞ্চের আগেই শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেন ভারতীয় পেসার ও স্পিনাররা। অশ্বিন একাই তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। টেস্টে এই নিয়ে ২৬বার এমন কীর্তি অর্জন করলেন তিনি। আর দুটি উইকেট ঝুলিতে ভরে নয়া নজির গড়ে ফেললেন ভারতীয় স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। দ্বিতীয় ভারতীয় স্পিনার হিসেবে টেস্টে দ্রুততম ১৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি। ধনঞ্জয় ডি সিলভার উইকেট নিতেই বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেন তিনি। মাত্র ৩২টি টেস্ট খেলে এই নজির গড়লেন তিনি। তাঁর আগে একমাত্র অশ্বিন এই কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন। ২৯ টি টেস্ট খেলে ১৫০ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর স্পিনার।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসের শ্রীলঙ্কা যেন অনেক আলাদা। শুরুতেই ওপেনার থরাঙ্গা(২)-র উইকেট হারালেও দুর্দান্ত লড়াই চালান মেন্ডিস ও করুণারত্নে। ১৩৫ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলে আউট হন মেন্ডিস। মারেন ১৭টি চার। এক সময় ভারতীয় বোলিংকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল এই জুটি। তবে বিরাটকে দিনের একদম শেষ দিকে এসে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তিনিই তুলে নেন মেন্ডিসের উইকেট। তবে মেন্ডিসের আউট হওয়ার পিছনে ঋদ্ধির দুর্দান্ত ক্যাচের প্রশংসাও করতে হবে। এদিকে, ৯২ রান করে ক্রিজে রয়েছেন করুণারত্নে। শ্রীলঙ্কা এখনও পিছিয়ে ২৩০ রানে। পিচের যা অবস্থা তাতে চতুর্থ দিনে ম্যাচ শেষ না হলে সেটাই সবচেয়ে বেশি অবাক করা ঘটনা হবে। কারণ যত সময় যাচ্ছে পিচ আরও স্লো হয়ে যাচ্ছে। একই সুর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের গলাতেও। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘সকালে পিচ থেকে ভালই সাহায্য পাওয়া যাচ্ছিল। তবে পরের দিকে পিচ থেকে বেশি সাহায্য পাওয়া যায়নি। এটা মানতেই হবে যে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা দুর্দান্ত ব্যাটিং করছে। পিচ ধীরে ধীরে স্লো হচ্ছে। পরের নতুন বল কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে।’ এখন দেখার চতুর্থ দিনেই টেস্ট ও সিরিজ পকেটে পুরতে পারেন কিনা বিরাটরা।
দেখুন ভিডিও:
[জানেন, কেন জাতীয় টেনিস সংস্থাকে একহাত নিলেন বোপন্না?]
The post ফলো-অনের পরেও কলম্বো টেস্টে লড়াই জারি শ্রীলঙ্কার appeared first on Sangbad Pratidin.
