ব্রাজিল- ২ (অ্যালান, ইউরি)
মালি- ০
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইংল্যান্ডের কাছে হারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি সাম্বার দেশের অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবলাররা। ব্রিউস্টারের হ্যাটট্রিকের ক্ষতটা শনিবারও ছিল দগদগে। কিন্তু বুধবার সেমিফাইনালে হারের পর ছেলেদের হাল ছাড়তে মানা করেছিলেন কোচ আমাদিউ। চেয়েছিলেন, হারের দুঃখ ভুলে ফের চাগিয়ে উঠুক ছেলেরা। ফাইনালে যাওয়া হয়নি, কিন্তু তিন নম্বর হওয়ার লড়াইয়ে আফ্রিকান জায়ান্ট কিলার মালিকে হারিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চেয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত তার মান এবং দেশের মান রাখল পাওলিনহোরা। শনিবার মালিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের অভিযান শেষ করল সেলেকাওরা। দ্বিতীয়ার্ধে করা গোল দুটির নেপথ্যে অ্যালান সুজা ও ইউরি অ্যালবার্তো। চতুর্থ হয়েই শেষ করল মালি।
এদিন ব্রাজিলের সমর্থনে মাঠ ভরিয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। কলকাতা যেন ব্রাজিলের সেকেন্ড হোম, তা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিল গত বুধবারের যুবভারতী। এদিনও তার অন্যথা হয়নি। স্টেডিয়ামে হলুদ ঢেউ অব্যাহত ছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে কেমন যেন খেলাতেই ছিল না ব্রাজিল। অজস্র মিস পাস, স্লথ ফুটবল, ছন্নছাড়া লাগছিল অ্যালান-লিঙ্কনদের। কোচ আমাদিউকেও বেশ কয়েকবার চিন্তায় কপালে হাত দিতে দেখা যায়। কোথায় সেই শিল্প, মালি যেন ঘাড়ের উপর চেপে বসেছিল। মনে হচ্ছিল শরীরটাই দৌড়চ্ছে, মন পড়ে আছে দেশে। বেশ কয়েকবার ব্রাজিলের মিস পাসের সুযোগ নিয়ে গোল করেই ফেলেছিল মালি। প্রথমার্ধে মালির রক্ষণভাগে দাঁতই ফোটাতে পারেনি ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে আচমকাই যেন সম্বিৎ ফেরে ব্রাজিলের খুদে ফুটবলারদের। মনে পড়ে যায় দেশের ফুটবল গর্বের কথা। মালির কাছে হেরে গেলে দেশে ফিরে মুখ দেখাব কী করে? এই আত্মোপলব্ধি থেকেই ফের ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। পালটা চাপ দিতে থাকে মালির ডিফেন্সে। আর আক্রমণ থেকেই গোল আসে ৫৫ মিনিটের মাথায়। ব্রাজিলের অ্যালান সুজার ডান পায়ের গোলার মতো শট পরাস্ত করে মালির গোলকিপারকে।
তারপর রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতো একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে ব্রাজিল। মাঠে চেনা সাম্বা ছন্দ দেখে ঘুম থেকে জেগে ওঠে যুবভারতী। ফের ব্রাজিল, ব্রাজিল ধ্বনি ওঠে মাঠে। উলটোদিক থেকে গোলমুখ খোলার চেষ্টা চালিয়ে যায় মালিও। কিন্তু সফল হয় না আফ্রিকার এই দেশটি। ম্যাচের শেষ লগ্নে ৮৮ মিনিটে মালির কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতে ইউরি অ্যালবার্তো। মালির গোলকিপারকে একা পেয়ে জালে বল জড়াতে ভুল করেনি সে।
শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে মালি। কিন্তু আজ দিনটা ছিল ব্রাজিলের। যে কোনও মূল্যে দেশবাসীকে হৃত সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ছিল তাদের বুকে। সেই কাজে সফল হয়েছে পাওলিনহোরা। প্রিয় দলের জয় দেখে খুশিতে ভেসেছে শনিবারের যুবভারতীও।
