পারমিতা পাল: মহিলাদের নয়, পুরুষদের স্পর্শ পছন্দ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে বহু কমবয়সি ছেলেকে নিজের কাছে এনে রাখতেন তিনি। চাকরির নামেও অনেককে নিগ্রহ করেছেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন একদা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ আরমান ভোলা। পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারের দাপট নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।
মহিলা পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে ‘ডোন্ট টাচ মি’ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপি (BJP) বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের তরফে তাঁর সত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ‘অনুগামী’ আরমান। কে এই আরমান ভোলা?
[আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের বিনিয়োগ টাটার, খড়গপুরে ছশো কোটির ইউনিটের ফিতে কাটলেন মুখ্যমন্ত্রী]
২০২০ সালে পূর্ব মেদিনীপুর-সহ গোটা রাজ্যে ‘দাদার অনুগামী’ পোস্টারে ছেয়ে যায়। শুভেন্দুকে ঘিরে তৈরি হয় নতুন এক গোষ্ঠী ‘অনুগামী’। সেই গোষ্ঠীর স্রষ্টা ছিলেন হলদিয়ার আরমান ভোলা-সহ মোট ৫ জন। এদিন তাঁরাই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। অভিযোগ, নিজের স্বার্থে জেলার ছেলেদের ভুল বুঝিয়েছেন শুভেন্দু। টাকা দিয়ে অনুগামী তৈরি করেছিলেন। রাজ্যজুড়ে প্রচার করেছিলেন টাকার বিনিময়ে। আরমান ভোলার আরও দাবি, “এক তৃণমূল নেতার (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) উপর তাঁর (শুভেন্দু) খুব রাগ। সেই রাগেই তো এসব করছেন। তখন বলতেন কলকাতার নেতারা জেলাকে বঞ্চনা করছে। এখন তো উনি নিজেই তাই করছেন।” কিন্তু একদিন যে ছিলেন শুভেন্দুর ডান হাত, তাঁর ছায়াসঙ্গী, হঠাৎ কী এমন হল যে নেতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন? তাঁর সমস্ত কুকীর্তি জনসমক্ষে ফাঁস করে দিচ্ছেন?
এ প্রশ্নের জবাব দিয়ে আরমান বলছেন, “শুভেন্দু বলছেন, রাষ্ট্রবাদী রাজ্য গড়বেন। আসলে তিনি স্বার্থবাদী রাজ্য গড়বেন। যেভাবে চলছেন উনি তাতে রাজ্যে হিংসা বাড়বেষ অশান্তি ছড়াবে। তাই এবার আমরা ওঁর অভিসন্ধি ফাঁস করে দিচ্ছি।”
নন্দীগ্রাম ভোটের সময়ও শুভেন্দুর হয়ে কাজ করেছিলেন আরমান ভোলারা। সেই সময়ে নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা করার পর তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা হয়। পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। আরমান ভোলার দাবি, সেদিন হলদিয়া থেকে প্রচুর ছেলে নন্দীগ্রাম গিয়েছিল বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। কী উদ্দেশ্য নিয়ে, সেটা অবশ্য সরাসরি পুলিশ বা আদালতে জানাবেন বলে দাবি করেছেন ভোলা। পাশাপাশি কীভাবে জেলার একের পর এক ভোট শুভেন্দু নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁর প্রাক্তন অনুগামী।
[আরও পড়ুন: ‘চা ভরতি কেটলি-কাপ, ঝালমুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পুজোয় বিক্রি করুন’, পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর]
আরমান ভোলা ও তাঁর সঙ্গীদের দাবি, নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে শুভেন্দুর থেকে সরে আসছি। রাজ্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন ভোলা। ধীরে ধীরে শুভেন্দুর সমস্ত কুকীর্তির প্রমাণ প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন আরমান ভোলা।