এআই নিয়ে আশঙ্কা আজকের নয়। স্বয়ং স্টিফেন হকিং বহু আগেই ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। সেই 'ভবিষ্যৎ' এখন 'বর্তমান' হওয়ার পথে! এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করে চাকরি ছাড়লেন গুগল ডিপমাইন্ড নিরাপত্তা গবেষক বিলাল চুঘতাই। এর আগে একই আশঙ্কা প্রকাশ করে চাকরি ছেড়েছেন জশ এঙ্গেলস। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
বিলাল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'আমি সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ড থেকে ইস্তফা দিয়েছি। যেখানে আমি এজিআই-এর নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট বিষয়ক গবেষণা করতাম। গুগলে থাকাকালীন আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই প্রযুক্তির বর্তমান অগ্রগতির ধারা নিয়ে আমিও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এআই-এর কারণে আমাদের সকলের বিলুপ্তির ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিণতি এড়ানোর জন্য আমাদের হাতে হয়তো খুব কম সময় অবশিষ্ট আছে।'
একই কথা বলছেন এঙ্গেলসও। তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, 'তিন সপ্তাহ আগে আমি গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই নিরাপত্তা টিম ছেড়েছি। আমার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কারও কারও কাছে এই সিদ্ধান্তটি অদ্ভুত মনে হয়েছিল। কারণ, ডিপমাইন্ডে আমি যে কাজ করতাম তা বেশ উপভোগ করতাম। তবুও চাকরিটা ছেড়েছি, কেননা আমার মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই বেশি।'
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কটা একেবারে চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের মতামত জানিয়েছেন। তবে এআই প্রযুক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে থাকা এআই ক্ষেত্রেরর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ট্রাম্প অবশ্য যাবতীয় আশঙ্কাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি চান মার্কিন এআই সংস্থাগুলি যেন চিনের চেয়ে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যে উন্নত সব মডেল তৈরি অব্যাহত রাখে। কিন্তু তিনি এহেন 'ইঁদুরদৌড়' নিয়ে মেতে থাকতে চাইলেও সারা বিশ্বজুড়েই আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।
সম্প্রতি ‘অ্যানথ্রপিক’-এর প্রধান দারিও আমোদি একটি ব্লগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিছুটা ‘ধীর’ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ওপেনএআই’-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ‘এক্সএআই’-এর প্রধান এলন মাস্ক এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাতে সায় দেন।
