প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নয়, বরং নিরাপদ দূরত্বে থেকে সম্পর্ককে ‘ক্যাজুয়াল’ রাখাই পছন্দ করে একাংশের মানুষ। ‘ক্যাজুয়াল’ অর্থাৎ একসঙ্গে ঘুরতে-খেতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, ফোন-মেসেজে গল্প করা, অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটান— সবটাই চলবে। কেবল তাতে কমিটমেন্টের তাড়া থাকবে না। সারা জীবন একসঙ্গে কাটাতে হবে, সংসার করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না এ ধরনের সম্পর্কে (Casual Dating)।
ফলে শুনে মনে হতে পারে, সোনায় সোহাগা! দুশ্চিন্তা নয়, কেবলমাত্র প্রেমের সম্পর্কের সুসময়টুকুই বুঝি দীর্ঘায়িত হয় এমন সব ক্ষেত্রে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? মনোবিদরা বলছেন, বাস্তব চিত্র বেশ কিছুটা আলাদা।
১। দু’জনের প্রত্যাশা এক নাও হতে পারে
সম্পর্কে থাকা দুজন মানুষের চাওয়া-পাওয়া, জীবনকে দেখার ভঙ্গি যে একই, এমনটা বলা যায় না। হয়তো মুখে সম্পর্কটিকে ‘ক্যাজুয়াল’ রাখার কথা বললেও মনে মনে অপরজনের প্রতি গভীর দুর্বলতা তৈরি হয় এক পক্ষের। তিনি হয়তো মনে মনে আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে তা সিরিয়াস সম্পর্কে বদলে যাবে।
২। কেমিস্ট্রি রয়েছে মানেই একে অপরের পরিপূরক নন
ক্যাজুয়াল ডেটিংয়ে আকর্ষণ, উত্তেজনা থাকেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু সাময়িক কেমিস্ট্রি যথেষ্ট নয়। সময়ের সঙ্গে তা ফিকে হয়ে যায়। ফলে এক সময়ের পর যদি দুই পক্ষই সম্পর্কটিকে নতুন নাম দেবেন বলে মনে করেন, তখন দেখা যায় আদতে দুজনের মধ্যে মিলের চাইতে অমিলই বেশি।
৩। সন্দেহ তৈরি হতে পারে
এমন সম্পর্ক যদি ভবিষ্যতে পরিণতি পায়, তবে দুই পক্ষের মনেই অপর পক্ষের সম্পর্কে সন্দেহ রয়ে যায়। একপক্ষ একসঙ্গে ভালো থাকার আপ্রাণ চেষ্টাও করলেও অন্যপক্ষের মনে হতে থাকে, হয়তো এসবই সাময়িক। অথবা, ক্যাজুয়াল সম্পর্কের প্রতি ছুৎমার্গ নেই তাই কমিটেট সম্পর্কে থাকার পরেও নতুন কারও প্রতি আকর্ষিত হতে পারে, দুজনেরই পরস্পরকে নিয়ে এমন ভয় থেকে যায়।
৪। নিজের প্রতিও তৈরি হয় দ্বিধা
দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্যাজুয়াল সম্পর্কে থাকার পর যদি পরবর্তীকালে কখনও কমিটেড সম্পর্কে যান কোনও ব্যক্তি, তবে সময়ে সময়ে মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আগের মুক্ত জীবনই ভালো ছিল, মনে করেন এমনটা। ফলে সঙ্গের মানুষটি অবহেলিত হয়, ভাঙন ত্বরান্বিত হয় সম্পর্কে।
জীবনের যে কোনও সিদ্ধান্তের আগেই ভাবনাচিন্তা একান্ত জরুরি। সম্পর্কের নাম ‘ক্যাজুয়াল’ হলেও যতদূর সম্ভব ভেবে নিতে হবে আগামীর ভালো-মন্দ। সবদিক চিন্তা করেও এই সিদ্ধান্তে থিতু হওয়া গেলে এগোন যেতেই পারে। তবে সম্পর্কের হালকাভাবটিই যেন বজায় থাকে, তা অপরপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে যেতে হবে প্রথমেই।
