পুণের লোহাগড় দুর্গে (Pune Lohagad Case) প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে হবু স্বামীকে কেতন বিশাল আগরওয়ালকে খুনে অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া এবং প্রেমিক চেতন চৌধুরী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে কেতনের! প্রাথমিক অনুমান, পা ফস্কে পড়ে গিয়েই ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কিন্তু, তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে আসছে হাড়হিম করা চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ৩৫০ ফুট নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দু’জনের বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তরুণীর বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দেওয়ারও চেষ্টা করেন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের আতশকাচের নিচে সিয়ার পরিবারও।
এই ঘটনায় গভীর শোকজ্ঞাপন করেছেন হিন্দি মেগার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিনা খান (Hina Khan)। সিয়ার একটা সত্যিতে হয়ত তরুণ তুর্কি কেতন আজ বেঁচে থাকতেন। অত্যন্ত হতাশের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি শেয়ার করেছেন। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের ঔদ্ধত্যের কথাও ফুটে উঠেছে অভিনেত্রীর পোস্টে। তরুণ প্রজন্মের মানসিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজের ভাব ব্যক্ত করেন।
পুণে হত্যাকাণ্ডে এবার চাঞ্চল্যর মোড়।
কেতন মার্ডার কেস হ্যাশট্যাগে সমাজমাধ্যমে হিনা লিখেছেন, 'আমরা এমন এক সময়ে অবস্থান করছি যেখানে সত্যি কথা বলা এবং সেই সত্যি গ্রহণ করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। কারও প্রাণ কেড়ে নিতেও দ্বিধা করছে না। মনে হচ্ছে, সত্যি মেনে নেওয়ার চেয়ে হত্যা যেন অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। তোমার একটা সত্যি ওঁর জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারত। তারপর তুমি তোমার পছন্দের এক্স ওয়াই জেডের সঙ্গে জীবন কাটাতে। কিন্তু, আপশোস!'
হিনার পোস্ট
কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ? আসলে তদন্তের সূত্রে লোহাগড়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তখনই তাঁদের মাথা ঘুরে যায়। ফাঁস হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেতন এবং সিয়ার গাড়ি অনুসরণ করছেন এক যুবক। তাঁর গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, জুন মাসের ভ্যাপসা গরম, বাইরে যখন তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন ওই যুবকের পরনে ছিল হুডি।
নিয়ত কেতন (বাঁ দিকে), অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া।
তীব্র গরমে কেন তিনি হুডি পরেছিলেন? তা ভাবিয়ে তোলে তদন্তকারীদের। সেখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘোরে। যেখানে কেতনের মৃত্যু হয়েছিল, সেই এলাকার আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েন ওই যুবক। তখনই পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়। সিয়ার সঙ্গে যে ওই যুবকের কোনও যোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি তদন্তকারীদের দাবি অস্বীকার করেন কিন্তু পরে চাপের মুখে ভেঙে পড়েন তরুণী।
