বিগ বসের ঘরে একেবারে তুলকালাম! গেম শোয়ে কখন যে হাওয়া কোন দিকে বয়ে যাচ্ছে বোঝা বড়ই দায়। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই টেলি অভিনেত্রী নন্দিনীর সঙ্গে রাজবীরের একটা মাখোমাখো রসায়নের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বই কী! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিযোগীদের হাইভোল্টেজ ড্রামা থেকে রগরগে রোম্যান্সে খেলা জমে ক্ষীর। শোয়ের দর্শকের মতে 'ফ্লার্ট' অস্ত্রকেই নাকি ট্রফি জেতার ফন্দি এঁটেছেন রাজবীর। সৃজলা গুহকে অতীত করে নন্দিনী দত্তর সঙ্গে সম্পর্কের নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত পাচ্ছে বিগ বস বাংলার দর্শক। গণেশ চতুর্থীর রাতে ঘরের লাইট বন্ধ হতেই কম্বলের নিচে নন্দিনীর সঙ্গে খুনসুটি।
অতঃপর রাজবীরকে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেন। বিনা অনুমতিতে সৃজলার জামাকাপড় ফেলে দেওয়াকে কেন্দ্র করেও একেবারে হুলস্থুল কাণ্ড। মডেল-অভিনেতার কাণ্ডকারখানায় প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু ঘটছেই। 'বিগ বস বাংলা'র দূর্গে পা রেখেই খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছেন রাজবীর দে। সোমবার রাতে এক কম্বলের নিচেই ছিলেন রাজবীর-নন্দিনী। স্বাভাবিকভাবেই ঘরের প্রতিটি সদস্যের নজর ছিল তাঁদের দিকে। সোনামণি তো বেশ কয়েকবার নিজের খাট থেকে উঁকিঝুঁকিও মারছিলেন।
নন্দিনীকে জড়িয়ে শুয়ে রাজীব আর দুজনে ফিসফিস করে কিছু কথা বলছেন। এরপরই হাওয়াবদল! নন্দিনী রাজবীরকে বলেন, "তোমার আমার যে ইক্যুয়েশন তা বন্ধুত্ব হোক বা যা কিছু আমি চাই না বাইরে সেটা দেখাও। আর বড়দের সামনে এভাবে গায়ে হাত দিয়ে ইয়ার্কি মারাটা শোভনীয় দেখায় না"। নন্দিনীর কথায় রাজবীর পালটা বলেন, "আমি কোথায় আগে করেছি। কে আগে শুরু করেছে? কালকেও তো তুমিই এসেছিলে!"
নন্দিনীর পালটা যুক্তি, "আমি তো বলছি না করো না, শুধু বলছি বড়দের সামনে করো না।" খানকটা বিরক্তির সুরেই রাজবীরের বক্তব্য, "বড় কেউ নেই। এখানে সবাই প্রতিযোগী, তুমি নিজের ইমেজ বজায় রাখো।" এরপর খুনসুটি করতে করতেই রাজবীর রাগ করে নন্দিনীর পায়ের দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে লাথি মেরে খাট থেকে রাজবীরকে ফেলে দেন। এ তো গেল নন্দিনী প্রসঙ্গ। এবার আসা যাক আরেক প্রতিযোগী সৃজলার সঙ্গে অশান্তির কথায়।
বিগ বসের ঘরে প্রতিদিনের কাজের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করা থাকে। এদিন বাথরুম পরিষ্কারের গুরুদায়িত্ব ছিল রাজবীরের কাঁধে। বাথরুমে গিয়েই দেখেন সেখানে কিছু জামাকাপড় পড়ে আছে। সেগুলো তুলে নিয়ে আসেন লিভিং এড়িয়ায়। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন সৃজলা। কারণ সেগুলো তাঁরই ছিল। বিনা অনুমতিতে কোনও মেয়ের পোশাক হাত দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিনেত্রী। শুরু হয় তুমুল ঝামেলা।
সৃজলা কড়া ভাষায় বলেন, "এটা একটা গেম শো, আমি এখানে সম্মান বেচতে আসিনি।" পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন ক্যাপ্টেন সোহিনী। অভিনেতা ভরত কলও সৃজলার সমর্থনেই কথা বলেন। তবে রাজবীরের ঢাল হয়ে নন্দিনীর বক্তব্য, এর আগেও সৃজলার জামাকাপড় ওখানে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। যদি তিনি ওখানেই নিজের জিনিস রাখতে চান তাহলে আগে থেকে জানানো প্রয়োজন। এই ঘটনার পর রাজবীরের সঙ্গে জীতু আলাদাভাবে কথা বলেন। একটা সময় রাজবীর উপলব্ধি করেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। সৃজলার কাছে গিয়ে নিজেই ক্ষমা চেয়েছেন রাজবীর।
