মরুভূমির রাতে বুনো চোখের দ্যুতি। বালিয়াড়ির নীরবতা চিরে নিশাচর প্রাণীদের গোপন চলাফেরা। এবার এমনই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছে এশিয়া। গুজরাটের বনাসকাঁটা জেলার জুনা দিশাতে তৈরি হতে চলেছে মহাদেশের প্রথম মরু-থিমভিত্তিক নাইট সাফারি ও চিড়িয়াখানা। আঁধার নামলেই খুলবে এই বন্যজগতের রহস্যময় দরজা। যদিও দিনের বেলায় চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে সকলের জন্য।
প্রতীকী ছবি
সম্প্রতি সেন্ট্রাল জু অথরিটি (সিজেডএ) এই মেগা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। গুজরাট বন দপ্তর সূত্রের খবর, ১০৩ হেক্টরের বিস্তৃত সরকারি জমিতে মাথা তুলবে এই 'ডেজার্ট জ্যুলজিক্যাল পার্ক'। প্রায় ৫৪২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কে পর্যটকরা রাত সাফারির আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল গাড়ি নিয়ে সরাসরি জঙ্গলের গভীরে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা বা 'ড্রাইভ-থ্রু' নাইট সাফারি। নিশাচর বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি হচ্ছে পাঁচটি বিশেষ এনক্লোজার। দিনে যেখানে সাধারণ চিড়িয়াখানার আমেজ, রাতেই তা বদলে যাবে এক রহস্যময় অভিজ্ঞতায়।
প্রতীকী ছবি।
পার্কটিতে প্রায় ৮৩ প্রজাতির মোট ২৭০০ পশুপাখি রাখা হবে। ভারতীয় চিংকারা, কৃষ্ণসার হরিণ, বুনো গাধা, এশীয় সিংহ ও চিতাবাঘের পাশাপাশি স্থান পাবে মরুভূমির ধনেশ, শিয়াল, হায়না, স্লথ বিয়ার ও বিরল প্রজাতির ক্যারাকেল।
শুধু দেশীয় বন্যপ্রাণী নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আনা হচ্ছে বিদেশি অতিথিও। আফ্রিকার মহাদেশীয় বুনো পরিবেশ বোঝাতে থাকবে আফ্রিকান চিতা, সিংহ, অঙ্গোলান জিরাফ, স্প্রিংবক ও উটপাখি। পাশাপাশি ক্যাঙারু, এমু ও ওয়ালাবির উপস্থিতি দেবে অস্ট্রেলীয় ছোঁয়া।
প্রতীকী ছবি
শুধু সান্ধ্য সাফারি নয়, পর্যটকদের পথচলায় বৈচিত্র্য আনতে থাকছে রেইনফরেস্ট বায়োম, বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম, অ্যাভিয়ারি বা পাখিরালয়, সরীসৃপ পার্ক এবং প্রজাপতি উদ্যান। তৃণভোজী ও মাংসাশী প্রাণীদের জন্য আলাদা মুক্তাঞ্চলের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সফরটি আরামদায়ক করতে গলফ কার্ট পরিষেবা থেকে শুরু করে আধুনিক ফুড কোর্ট ও স্মারক বিক্রয় কেন্দ্রের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
পর্যটনের পাশাপাশি বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর পুনর্বাসন এবং পরিবেশ শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই পার্ক। পরিবেশ ও প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে ভারতের বন্যপ্রাণী পর্যটনে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছে জুনা দিশার এই মরু-উদ্যান।
