কেউ কেউ সাপ দেখলে অস্বস্তি পান, তাই হয়তো একদল মানুষ বলতে পারেন না যে সাপের দেখা পেলে তাঁদের আসলে ভালোই লাগে! আজ্ঞে হ্যাঁ, সর্পপ্রেমীদের (Destinations for Snake Lovers) সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আর হবে না-ই বা কেন, সাপ আমাদের বাস্তুতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
জঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত বাঘ, হাতি, গণ্ডার, হরিণ, চিতাবাঘের দেখা পাওয়ার কথা ভাবে সকলেই। কিন্তু ভারতের অরণ্য ও জলাভূমিতে রয়েছে সাপেরাও, যাদের উপস্থিতি নীরব, অথচ চমকপ্রদ। গ্রীষ্ম অথবা বর্ষায় যদি সাপেদের দেখা পেতে চান, তাহলে ভারতের কোন জঙ্গলগুলিতে যেতে হবে, জানেন?
ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান, ওড়িশা
আগুম্বে, কর্নাটক
কর্নাটকের পশ্চিমঘাটের ঘন রেইনফরেস্টে ঘেরা আগুম্বে কিং কোবরা-অধ্যুষিত অঞ্চল। প্রবল বৃষ্টিপাতের জন্য এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ ভারতের চেরাপুঞ্জি’ও বলা হয়। আগুম্বের সঙ্গে কিং কোবরার সম্পর্ক শুধু পর্যটনের নয়, গবেষণারও। রোমুলাস হুইটেকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা আগুম্বে রেইনফরেস্ট রিসার্চ স্টেশন বহু বছর ধরে কিং কোবরার সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছে।
ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান, ওড়িশা
নদী ও খাঁড়ি ভরা এই ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্যে দেখতে পাওয়া যায় বিরাটাকার নোনাজলের কুমির। রয়েছে অজগর, গোখরো, জলগোসাপ ও আরও নানা সরীসৃপ। কাদামাটির চর, গাছের শিকড়, ঘন ঝোপ—সব মিলিয়ে সরীসৃপদের জন্য তৈরি হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়। শীতকালে পরিযায়ী পাখিরাও এখানে আসে।
মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক, তামিলনাড়ু
এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরীসৃপ সংরক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র। ১৯৭৬ সালে রোমুলাস হুইটেকার, জাই হুইটেকার এবং তাঁদের সহযোগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির সূচনা হয়। কুমির সংরক্ষণের পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। ভারতীয় অজগর, রেটিকুলেটেড পাইথন, কিং কোবরা-সহ বিভিন্ন সাপ এখানে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে গোখরো, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, দাড়াশ প্রভৃতি।
পারাসিনিক্কাডাভু স্নেক পার্ক, কেরল
উত্তর কেরলের কান্নুর জেলায় ১৯৮২ সালে পারাসিনিক্কাডাভু স্নেক পার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে কিং কোবরা, ভারতীয় অজগর, গোখরো, দাড়াশ, নেকড়ে সাপ-সহ বিভিন্ন বিষধর ও নির্বিষ সাপ দেখা যায়। এই উদ্যানের উদ্দেশ্য, মানুষের মনে সাপ সম্পর্কে অকারণ ভয় ও কুসংস্কার কমানো। বাস্তবে অধিকাংশ সাপ মানুষের আক্রমণ করতে চায় না। তারা নিজেদের মতো করে বেঁচে থাকতে চায়।
আগুম্বে, কর্নাটক
দান্দেলি, কর্নাটক
দান্দেলির ঘন জঙ্গলে কিং কোবরা, গোখরো, কেউটে এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপের উপস্থিতি রয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে নিশ্চিতভাবে সাপ দেখা যাবে—এমন নয়। হয়তো সকালে পাখি দেখতে বেরিয়ে কিংবা জঙ্গলের নির্জন পথে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল বিশাল কিং কোবরা! এই অনিশ্চয়তাই দান্দেলির আকর্ষণ।
সাপ দেখার সময় একটি কথা মনে রাখুন। সাপ দেখা গেলে তার কাছে যাওয়া, ছবি তোলার জন্য পথ আটকানো, খোঁচা দেওয়া বা ধরার চেষ্টা করা একেবারেই উচিত নয়। বিষধর সাপের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং বনকর্মী বা প্রশিক্ষিত গাইডের নির্দেশ মেনে চলুন।
