shono
Advertisement
Haunted Places in West Bengal

রাত বাড়লেই নূপুরের শব্দ, অলৌকিক চিৎকার, গা ছমছমে পরিবেশ বাংলার এই ৩ 'ভূতুড়ে' গ্রামে

রহস্যের সন্ধানে আপনি কি পা বাড়াতে চান অশরীরীদের গুপ্ত ডেরায়? তা হলে পশ্চিমবঙ্গের কিছু ভূতুড়ে ঠিকানায় আজ আপনার নিমন্ত্রণ।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 06:32 PM Aug 10, 2026Updated: 06:42 PM Aug 10, 2026

ভয়ের কোনও নির্দিষ্ট ভূগোল থাকে না। কিন্তু কিছু মাটি থাকে, যেখানে অতীত আর অলৌকিকতা একাকার হয়ে মিশে থাকে। অমাবস্যার থমথমে রাতে সেই সব মায়াভূমে পা রাখা মানেই এক অচিন রোমাঞ্চের মুখোমুখি দাঁড়ানো। রহস্যের সন্ধানে আপনিও কি পা বাড়াতে চান অশরীরীদের সেই গুপ্ত ডেরায়? তা হলে পশ্চিমবঙ্গের কিছু ভূতুড়ে ঠিকানায় আজ আপনার নিমন্ত্রণ। যদি সত্যি সত্যি ভূত নিয়ে কোনও রকম আগ্রহ থেকে থাকে, তাহলে এই ৩ গ্রাম ভুলেও মিস করবেন না।

Advertisement

প্রতীকী ছবি

বাঁকুড়ার চালিবাড়িরডিহি
বাঁকুড়ার চালিবাড়িরডিহি যেন এক জ্যান্ত লোকগাথা। একসময় জমজমাট গ্রাম ছিল। কিন্তু ভয়াবহ মহামারির থাবায় সব শেষ হয়ে যায়। আশির দশকে লক্ষ্মণ বাউরি নামে এক ব্যক্তি সাহস করে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। তাঁর দেখাদেখি ফিরে আসে আরও ১৫টি পরিবার। কিন্তু বছর দশেক আগের এক মর্মান্তিক শিশুহত্যার ঘটনা ফের ফিরিয়ে আনে সেই পুরনো আতঙ্কের অভিশাপ। রাতারাতি খাঁ খাঁ হয়ে যায় গোটা গ্রাম। আজ পুরো গ্রামে বাস কেবল লক্ষ্মণ বাউরি ও তাঁর পরিবারের। সন্ধ্যার পর সেখানে শুধু শুনশান নীরবতা। আর অচেনা আতঙ্কের ফিসফিসানি। রাত বাড়লেই বাড়ে ভয়। অদ্ভুত ফিসফিসানি আর ছায়াশরীরদের আনাগোনা যেন আজও থামেনি।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে বাস বা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যান ছাতনা বা সংলগ্ন চালিবাড়িরডিহি গ্রামে।

বীরভূমের কঙ্কালীতলা রোড
বীরভূমের সতীপীঠ কঙ্কালীতলার আশপাশের এলাকা নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা গল্প প্রচলিত। বিশেষ করে কোপাই নদীর পাড় সংলগ্ন পুরানো শ্মশান ও পরিত্যক্ত রাস্তা। রাত বাড়লেই নাকি সেই রাস্তায় অস্পষ্ট ছায়াশরীর ঘুরে বেড়ায়। সেই অদ্ভুত দর্শন ছায়া এতটাই ভয়াল যে দেখলে শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস এখানে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। গভীর রাতে নাকি ভেসে আসে নূপুরের ঝিনিঝিনি শব্দ। দূর-দূরান্ত থেকে বহু অনুসন্ধানী পর্যটকরা এখানে আসেন। সত্যিই যদি ভূত দেখার ইচ্ছে হয় তাহলে পা বাড়াতেই পারেন কঙ্কালীতলার বুকে।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশনে নামুন। স্টেশন থেকে অটো, টোটো বা ক্যাব ধরে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় কঙ্কালীতলা সংলগ্ন এই পুরানো শ্মশান এলাকায়।

প্রতীকী ছবি

বর্ধমানের বেগমপুর
পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের সীমান্ত ঘেঁষা বেগমপুর এবং কালনার পুরানো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ ঘিরে আবর্তিত হয় এক অন্য রোমাঞ্চ। শতবর্ষ প্রাচীন এই পরিত্যক্ত ইমারতগুলিতে একসময় অত্যাচারিত প্রজাদের রক্ত ঝরেছিল। স্থানীয়দের দাবি, অমাবস্যার রাতে কুঠিরের জীর্ণ দেওয়াল থেকে নাকি আর্তনাদ ভেসে আসে। ভারী অন্ধকারে ভাসতে থাকে কান্নার শব্দ। বাতাসে জেগে ওঠে ব্রিটিশ আমলের এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা। কেউ কেউ নাকি দূর থেকেও দেখতে পান এইসব অশরীরী অবয়ব। যদিও ভূত থাকুক বা না-থাকুক, ভূতের ভয় যে এইসব গ্রামে বহাল তবিয়তে রয়েছে তা বলাইবাহুল্য। তবে, আপনি যদি একটু অন্যরকম ভ্রমণে বিশ্বাসী হোন, যদি পরলোক নিয়ে আপনার মধ্যে ন্যূনতম আগ্রহ থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের এই সব স্থান ঘুরে দেখতেই পারেন।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া বা ব্যান্ডেল থেকে কালনা স্টেশনে নামুন। কালনা শহর থেকে লোকাল টোটো বা গাড়ি নিয়ে বেগমপুর ও সংলগ্ন পুরোনো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষে যাওয়া যায়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement