দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Janmashtami 2026

জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণপ্রেমের জোয়ার, দেশের এই ৫ তীর্থক্ষেত্রে মিলবে ভক্তির আসল খোঁজ

শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র ও জন্মাষ্টমীর রূপ পরখ করতে চান? ভারতের কোন ৫ স্থান সেরা ভ্রমণ ঠিকানা হতে পারে?
Buddhadeb Halder
06:01 PM Aug 27, 2026 IST
শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র ও জন্মাষ্টমীর রূপ পরখ করতে চান? ভারতের কোন ৫ স্থান সেরা ভ্রমণ ঠিকানা হতে পারে?
শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র ও জন্মাষ্টমীর রূপ পরখ করতে কোথায় যাবেন?

মথুরার কারাগারে ভাদ্র মাসের এক দুর্যোগপূর্ণ গভীর রাতে জন্ম নিয়েছিলেন দেবকীনন্দন। যুগ যুগ ধরে সেই তিথিই কৃষ্ণপ্রেমীদের কাছে পরম আনন্দের, পরম উদযাপনের। এ বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি দু’দিন ব্যাপী বিস্তৃত। স্মার্ত মত অনুযায়ী, সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে ৪ সেপ্টেম্বরই জন্মাষ্টমীর ব্রত পালিত হবে। অবশ্য শুধু পুজো-অর্চণা নয়, জন্মাষ্টমীর (Janmashtami 2026) এই বিশেষ তিথি ছুটির দিনে মনকে অন্য এক আলোয় ভরিয়ে তোলে। নিজের দৈনন্দিন পরিচিত জীবন ছেড়ে তাই অনেকেই বেরিয়ে পড়েন কৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত পুণ্যধামের উদ্দেশ্যে। শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র ও জন্মাষ্টমীর রূপ পরখ করতে চান? ভারতের কোন ৫ স্থান সেরা ভ্রমণ ঠিকানা হতে পারে? জেনে নিন।

মথুরা (উত্তরপ্রদেশ)

মথুরা (উত্তরপ্রদেশ)
যমুনার তীরে কৃষ্ণপ্রেমের আসল সৌরভ মেলে এই প্রাচীন নগরে। কারণ এটি স্বয়ং কৃষ্ণের জন্মভূমি। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পুরো মথুরা রঙিন আলোয় ও ফুলের সাজে সেজে ওঠে। উৎসবের সূচনা হয় 'ঝুলন উৎসব' দিয়ে। কৃষ্ণের জন্য তৈরি হয় সুসজ্জিত দোলনা। মন্দিরে মন্দিরে কৃষ্ণের শিশু বয়সের প্রতিমা বসিয়ে চলে আরাধনা। এ ছাড়া রাসলীলা ও মনোহরী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পর্যটকদের মন জয় করে নেয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

কীভাবে পৌঁছবেন: দিল্লি বা দেশের অন্যান্য প্রধান শহর থেকে ট্রেনে সহজেই মথুরা জংশনে পৌঁছানো যায়। আকাশপথে যেতে চাইলে নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল আগ্রা (প্রায় ৬০ কিমি) এবং দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (প্রায় ১৫০ কিমি)। দিল্লি থেকে সড়কপথে গাড়ি বা বাসে চেপেও যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ৩ ঘণ্টায় মথুরা পৌঁছানো যায়।

বৃন্দাবন (উত্তরপ্রদেশ)

বৃন্দাবন (উত্তরপ্রদেশ)
মথুরা থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৃন্দাবন। জন্মাষ্টমীর কয়েক দিন আগে থেকেই এখানে শুরু হয় ভক্তদের সমাগম। বাঁকে বিহারী, ইসকন এবং প্রেম মন্দিরের মতো বিখ্যাত ধামগুলি অপূর্ব আলোয় সাজানো হয়। বাতাস জুড়ে তখন শুধুই ভজন আর কীর্তনের ধ্বনি। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার জীবন্ত চিত্র তুলে ধরা হয় নাটকের মাধ্যমে।

কীভাবে পৌঁছবেন: বৃন্দাবনের নিজস্ব বড় রেল স্টেশন না থাকলেও নিকটতম প্রধান স্টেশন মথুরা জংশন (১৭ কিমি)। মথুরা স্টেশন থেকে অটো, ট্যাক্সি বা বাস ধরে খুব সহজেই বৃন্দাবনে পৌঁছে যাওয়া যায়। আকাশপথে আসতে চাইলে দিল্লি বিমানবন্দরই সবচেয়ে সুবিধাজনক।

বিড়লা মন্দির (দিল্লি)

বিড়লা মন্দির (দিল্লি)
যাঁরা উত্তরপ্রদেশের ভিড় এড়িয়ে শহরের কাছে ভক্তিভাব অনুভব করতে চান, তাঁদের জন্য দিল্লির লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির বা বিড়লা মন্দির আদর্শ। মাঝরাতে কৃষ্ণের জন্মলগ্নে এখানে আয়োজিত হয় বিশেষ 'মহা আরতি' ও 'অভিষেক'। আলোকসজ্জা ও পুষ্পসজ্জায় সেজে ওঠা এই মন্দির প্রাঙ্গণে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এসে জমা হন।

কীভাবে পৌঁছবেন: দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে বিমান বা ট্রেনে খুব সহজেই দিল্লিতে পৌঁছানো যায়। দিল্লির নতুন দিল্লি বা পুরনো দিল্লি রেল স্টেশন থেকে ট্যাক্সি, অটো অথবা দিল্লি মেট্রো ব্যবহার করে মন্দির মার্গ-এ অবস্থিত বিড়লা মন্দিরে সহজেই যাওয়া সম্ভব (নিকটতম মেট্রো স্টেশন 'আর কে আশ্রম মার্গ')।

দ্বারকাধীশ মন্দির (গুজরাট)

দ্বারকাধীশ মন্দির (গুজরাট)
কংসবধের পর শ্রীকৃষ্ণের কর্মভূমি ছিল গুজরাটের দ্বারকা। সেখানকার 'জগৎ মন্দির' নামে পরিচিত দ্বারকাধীশ মন্দিরে জন্মাষ্টমীর দিন ভোরবেলার 'মঙ্গল আরতি' দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। দিনভর চলে বিশেষ শৃঙ্গার ও মহাপূজা। সমুদ্রের বাতাস আর মন্দিরের ভক্তিগীতি বুকের মধ্যে জাগিয়ে তোলে এক অলৌকিক অনুভূতি।

কীভাবে পৌঁছবেন: ট্রেনপথে সরাসরি দ্বারকা রেল স্টেশনে যাওয়া যায়, যা দেশের প্রধান শহরগুলির সঙ্গে যুক্ত। বিমানপথে যেতে চাইলে নিকটতম বিমানবন্দর হল জামনগর (প্রায় ১৩৭ কিমি) এবং রাজকোট। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা বাসে দ্বারকা পৌঁছানো যায়।

মুম্বই ও পুণে (মহারাষ্ট্র)

মুম্বই ও পুণে (মহারাষ্ট্র)
মহারাষ্ট্রে আবার জন্মাষ্টমীর মূল আকর্ষণ অন্য রকমের। এখানে উৎসবের প্রধান অঙ্গ হল 'দহি হান্ডি'। মাখনচোর কৃষ্ণের মাখন চুরির স্মৃতিকে মনে রেখে বিশাল মানব পিরামিড তৈরি করা হয়। উঁচুতে বাঁধা দই ও মাখনের হাঁড়ি ভাঙার এই প্রতিযোগিতা দেখতে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। ভক্তির সঙ্গে রোমাঞ্চের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে বহু পর্যটক এই সময়ে মুম্বই ও পুণেতে আসেন।

কীভাবে পৌঁছবেন: মুম্বই ও পুণে ভারতের অন্যতম প্রধান মহানগর হওয়ায় রেল, সড়ক ও আকাশপথে দেশের সব প্রান্তের সঙ্গেই চমৎকারভাবে সংযুক্ত। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস বা ছত্রপতি টার্মিনাস রেল স্টেশন দিয়ে সহজেই শহরে পৌঁছানো যায়। পুণের ক্ষেত্রেও নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পুণে জংশন স্টেশন রয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
JanmashtamiTravel
Advertisement
Tags :
JanmashtamiTravel

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন