জঙ্গল সাফারি সব সময়ই একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে দিনের বেলার চেয়ে রাতের বেলায় জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চই আলাদা। যদিও দেশের সব অভয়ারণ্যে এমন সুযোগ মেলে না। কানহা, বান্ধবগড়, সাতপুরা জাতীয় পার্কের মতো কিছু জায়গাতেই এই সুযোগ মেলে। রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর নেশা কার নেই! কিন্তু খেয়াল রাখবেন কয়েকটি বিষয়ে মাথা না ঘামালে বিপদ!
মাথা রাখুন পারমিটের কথা
সাধারণত ছোট ছোট গ্রুপই যায় জঙ্গল সাফারি করতে। আগেই বুক করে নিন। পারমিট নিশ্চিত করে তবেই পরিকল্পনা করুন।
নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে
সবচেয়ে জরুরি হল নিরাপত্তা। তাই গাইডের পরামর্শ সর্বাগ্রে শিরোধার্য। সব সময়ই গাড়ির ভিতরে থাকুন। আচমকা আশপাশে কিছু নড়াচড়া করলে কিংবা শব্দ হলে অবশ্যই সতর্ক থাকুন।
দিনের বেলার চেয়ে রাতের বেলায় জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চই আলাদা। যদিও দেশের সব অভয়ারণ্যে এমন সুযোগ মেলে না। কানহা, বান্ধবগড়, সাতপুরা জাতীয় পার্কের মতো কিছু জায়গাতেই এই সুযোগ মেলে।
রাতের জন্য চাই যথাযথ পোশাক
অবশ্যই পরনে থাকুক ফুলপ্যান্ট ও পুরো হাতা জামা। পোকামাকড় ও বিষাক্ত গাছপালা থেকে বাঁচতে এটা একান্তই দরকার। পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে, অরণ্যের রাত সব সময়ই শীতের কামড়ে বিদীর্ণ! সেক্ষেত্রেও এই পোশাক ঠান্ডার সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে।
সঙ্গে থাকুক এই জিনিসগুলি
টর্চ হোক কিংবা হেডল্যাম্প, সঙ্গে অবশ্যই থাকুক আলোর সুবন্দোবস্ত। এছাড়া বাইনোকুলার, ইনসেক্ট রিপেলেন্ট, ক্যামেরা এসবও রাখুন। হালকা স্ন্যাকস ও জল নিতেও ভুলবেন না।
মাথায় রাখুন এই বিষয়টি
রাতের অভয়ারণ্যে 'বড় বিড়াল' দেখতে চান সকলেই। কিন্তু মনে রাখতে হবে অন্ধকার জঙ্গলে আপনার অপেক্ষায় আরও নানা প্রাণী ও পাখি। হায়না, চিতাবাঘ ছাড়াও পেঁচার মতো নিশাচর পাখিদের জঙ্গলের আদিম পরিবেশে দেখতে পাওয়ার মজাই আলাদা।
পরিবেশকে সম্মান করুন
মনে রাখবেন অরণ্য যাদের 'ঘরবাড়ি' তাদের বিরক্ত করার কোনওরকম অধিকার আপনার নেই। তাই চুপ করে অরণ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। অযথা চেঁচামেচি করবেন না। খাবারের প্যাকেট বা কোনও ময়লা ভুলেও ফেলবেন না। সেই সঙ্গেই ধৈর্য রাখতে হবে। রাতের সাফারি মানেই চিতাবাঘ দেখার রোমাঞ্চ মাত্র নয়। মনে রাখবেন, জঙ্গল সামগ্রিক ভাবেই এক জীবিত সত্তা। রাতের গভীরে জোনাকির ঝিকমিক উপস্থিতি ও ঝিঁঝির একটানা ডাক মিলেমিশে আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য জগতে। সেটাকে নিজের হৃদয় দিয়ে উপভোগ করুন।
