পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে জ্বালানি সংকটে এবার বাড়ছে উড়ানের ভাড়া! বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ। উড়ানের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আরও বিপাকে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন শিল্প। পর্যটন সংস্থাগুলোর আশঙ্কা একে ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে নির্বাচন, তার উপর একদিকে এলপিজি গ্যাসের আকালের জেরে বেড়েছে খাবারের দাম। অন্যদিকে যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভরা মরশুমেও অনেক বুকিং বাতিল হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এবার তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করল ভারতের বিমান পরিষেবায়! জ্বালানি খরচ সামাল দিতে বৃহস্পতিবার থেকে উড়ানের টিকিটের উপর অতিরিক্ত ‘ফুয়েল সারচার্জ’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। বুধবার সংস্থার তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, টিকিটের দাম বৃদ্ধি রুট ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে। তবে দেশের অভ্যন্তরে যে কোনও প্রান্তে ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের টিকিটের মূল দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩৯৯ টাকা সারচার্জ হিসেবে গুনতে হবে। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই হারে ভাড়া বাড়ছে।
ফাইল চিত্র।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিমানের জ্বালানি অর্থাৎ ‘এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল’-এর দাম আকাশছোঁয়া। একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালনা ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানিতে। বিপুল লোকসান এড়াতে ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন তারা। একে শহর থেকে গ্রাম রান্নার গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেলের মালিক এমনকী গাড়ির চালকদের। এবার কোপ পড়ল উড়ানের ভাড়ায়।
এমন সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে বসন্তের ভরা মরশুমেও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রীতিমতো কাপছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটন শিল্প। বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা, কলকাতা-সহ বিভিন্ন রুটে বিমান ভাড়া অত্যধিক বেড়ে যাবে। এর ফলে সিকিম ও উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়বেন। বাড়তি খরচের ভয়ে অনেকেই বুকিং বাতিল করবেন। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, "এমনিতেই উড়ানে ভাড়ার ঠিক ঠিকানা নেই। কখনও বাগডোগরা-কলকাতার ভাড়া ১৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। এখন তো যুদ্ধের পরিস্থিতি। এসব দেখার কেউ নেই। ইতিমধ্যে প্রচুর বিদেশি বুকিং বাতিল হয়েছে। এবার দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভিন রাজ্যের অনেক পর্যটক মুখ ফেরাবেন।"
হিমালয়ান হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি সম্রাট স্যান্যাল জানান, বিরাট সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে উত্তরের পর্যটন শিল্প। বছরে প্রায় ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে বেড়াতে আসেন। বেশিরভাগ আসেন বসন্ত মরশুমে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা আসছেন না। ভরসা ছিল দেশিয় পর্যটক। বৃহস্পতিবার থেকে উড়ানের ভাড়া বাড়ছে। সেটার বিরাট প্রভাব পড়বে। সম্রাটবাবু বলেন, "যাতায়াত খরচ আয়ত্বের বাইরে চলে গেলে কে আসবে বেড়াতে। এরপর ভোটের ডামাডোল শুরু হয়ে গেলে হোটেল, হোমস্টে ফাঁকা পড়ে থাকবে।"
