সপ্তাহান্তে স্বাধীনতা দিবস, সেই রাত পেরোলেই রবিবার। আগে-পরের দুই-একদিন ছুটি নিতে পারলেই চোখের পলকে ঘুরে আসা যাবে পাহাড় থেকে। তার জন্য কেবল প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনার ।
শিলিগুড়ি-দার্জিলিংয়ের ভিড়ভাট্টা নয়, কলকাতা থেকে শুক্রবার সকালে বেরিয়ে সোমবার সকালে বা দিনে ফিরে আসতে চাইলে, ঝেপি–লামাগাঁও–পালমাজুয়া নিয়ে একটি সুন্দর ‘অফবিট উত্তরবঙ্গ’ (Offbeat Places in North Bengal) ট্রিপ করা যায়। তবে তিনটি জায়গাতেই আলাদা করে রাত কাটানোর বদলে দু’টি জায়গাকে বেস হিসেবে রাখলে যাত্রার ধকল কম হবে এবং উপভোগ করার সময়ও বেশি পাওয়া যাবে।
লামাগাঁও।
শুক্রবার ভোরের বন্দে ভারতে কলকাতা থেকে ট্রেনে এনজেপি পৌঁছনো গেলে সবচাইতে ভালো হয়। এনজেপি থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঝেপির দিকে রওনা দিন। পাহাড়ি রাস্তার কারণে কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে রাখাই ভালো। দুপুরের পর ঝেপিতে পৌঁছে হোমস্টেতে চেক-ইন করুন। বিকেলে আর কোথাও না গিয়ে গ্রামের পথ ধরে হাঁটুন, চারপাশের পাহাড়-জঙ্গল উপভোগ করুন এবং সন্ধ্যায় হোমস্টেতে সময় কাটান। প্রথম রাতটা ঝেপিতে থাকাই ভালো।
শনিবার সকালে ঝেপিতে জলখাবারের পাট চুকিয়ে, লামাগাঁওয়ের দিকে রওনা দিন। গ্রাম ঘুরে দেখা, স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করা এবং দুপুরের খাবারের পর পালমাজুয়ার দিকে এগিয়ে যান। সন্ধেয় পালমাজুয়া পৌঁছে হোমস্টেতে চেক-ইন করুন। সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন পথে চলতে চলতেই, সঙ্গে মনোরম পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ তো রয়েছেই। রাতে স্থানীয় খাবার খেয়ে রাত কাটান পালমাজুয়ায়। হোমস্টের মালিকের সঙ্গে কথা বলে আয়োজন করা যেতে পারে বনফায়ারেরও।
রবিবার সকালে সূর্যোদয় দেখে, গ্রামের রাস্তা ও জঙ্গলের আশপাশে হেঁটে দেখতে পারেন। দুপুর-দুপুর পালমাজুয়া থেকে এনজেপির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ুন। পাহাড়ি রাস্তায় সময় বেশি লাগতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে। এনজেপি পৌঁছে কলকাতার ট্রেন ধরে ফিরে আসুন সোমবারই।
ঝেপি।
কেবল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দৌড়ে বেড়ানো নয়, পথের সৌন্দর্য উপভোগ করা ও শহুরে কোলাহল থেকে কয়েকদিন কাটানোই এই ছোট্ট ট্যুরটির উদ্দেশ্য। তাই প্রয়োজনে কোনও একটি জায়গা বাদ দিয়ে, অন্য দুটিও মন ভরে উপভোগ করা যায়। তবে বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তায় কয়েক জায়গায় বন্ধ থাকতে পারে। সে বিষয়ে আগে থেকে খোঁজখবর করে রাখতে পারলেই ভালো।
