টয়ট্রেনের জয় রাইডে বাজিমাত! উত্তরে বর্ষা মঙ্গল শুরু হলেও সমতলে ভ্যাপসা গরমের দাপট এতটুকু কমেনি। হাসফাস দশা থেকে নিস্তার পেতে পর্যটকদের বড় অংশের নজরে এখন শৈল শহর। স্বভাবতই দার্জিলিং ভ্রমণে টয়ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে। চলতি বছর মে মাসে যে টিকিট বিক্রি হয়েছে সেটা পাঁচ বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনেও আয় ৩৭০ লক্ষের বেশি হবে এমনটাই আশা করছেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) কর্তৃপক্ষ। বাড়তি চাহিদা দেখে রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাত্রিকালীন জয়রাইড-সহ বেশকিছু বাড়তি পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন পাহাড়ে ১৩টি টয়ট্রেন চলছে। তার মধ্যে ৯টি ডিজেল চালিত এবং ৪টি ঐতিহ্যবাহী বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। প্রতিটি ট্রেনে এতটাই ভিড় যে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটককে বাধ্য হয়ে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হচ্ছে।
হাসফাস দশা থেকে নিস্তার পেতে পর্যটকদের বড় অংশের নজরে এখন শৈল শহর। স্বভাবতই দার্জিলিং ভ্রমণে টয়ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে। চলতি বছর মে মাসে যে টিকিট বিক্রি হয়েছে সেটা পাঁচ বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে।
জয় রাইড টয়ট্রেন দার্জিলিং স্টেশন থেকে ছেড়ে বাতাসিয়া লুপ হয়ে দেশের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন ঘুম-এ যায়। আবার একই পথে ফিরে আসে। যাত্রাপথ প্রায় ১৪ কিলোমিটার। কিন্তু কু-ঝিকঝিক ছন্দে কুয়াশা কাটিয়ে সর্পিল পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে দু'ঘণ্টা। এই টয়ট্রেনের জয় রাইডের জন্য মুখিয়ে থাকেন পর্যটকদের আট থেকে আশি। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, টিকিটের চাহিদা এবার খুবই বেশি। তাই মে মাসের মতো জুন মাসেও টিকিট বিক্রি চলবে বলে মনে হচ্ছে। বুকিং ট্রেন্ড দেখে মনে হচ্ছে জুনেও আয় ৩৭০ লক্ষের বেশি হবে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে আয় হয়েছিল ৩১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে বাড়ে আয় বেড়ে হয় ৩৫৮ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু ২০২৪ সালে আয় কমে হয় ২৮৮ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে আয় অনেকটা বেড়ে হয় ৩৫৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের মে মাসে রেকর্ড আয় বেড়ে হয়েছে ৩৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। জুনে আয় ৩৭০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেলে সেটাও হবে নতুন রেকর্ড। এবার গ্রীষ্মের মরশুম থেকে বর্ষার সূচনা পর্যন্ত পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল অব্যাহত। জয় রাইডের টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। তাই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ টয় ট্রেনে ভ্রমণের ইচ্ছে থাকলে আগে থেকে টিকিট বুক করে নেওয়া ভালো। এমন পরামর্শের কারণ, বেড়াতে এসেও হেরিটেজ জয় রাইডের স্বাদ না পেয়ে পর্যটকদের আক্ষেপ ও মন খারাপের ঘটনা নজরে এসেছে রেল কর্তৃপক্ষের। ওই কারণে ছুটির দিনগুলোতে ‘স্পেশাল সার্ভিস’ বা বিশেষ টয়ট্রেন চালানোর বড়সড় পরিকল্পনা শুরু করেছেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, প্রতিটি ট্রেন পর্যটকে ঠাসা। চলতি পর্যটন মরশুমে টয়ট্রেনের চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে। অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না।
