বর্ষা নামলেই যেন নতুন জীবন পায় পাহাড়ের ঘুমন্ত নির্ঝরগুলি। কোথাও শ্বেতশুভ্র দুগ্ধধারা পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়ছে। কোথাও আবার উত্তাল জলরাশির জলীয় বাষ্পে কুয়াশার চাদর মুড়ছে চারপাশ। বর্ষার ছোঁয়ায় ভারতের নানা প্রান্তে সজীব হয়ে উঠেছে এমনই কিছু বিখ্যাত জলপ্রপাত। জল ও পাহাড়ের এই মহাকাব্যিক জলসা দেখার এটাই সেরা সময়। সেই স্বর্গীয় রূপ দেখতে কোথায় যাবেন? রইল সেরা ৫ ঠিকানা।
ছবি: সংগৃহীত
নুরানাং জলপ্রপাত
অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। জং জলপ্রপাত নামেও এটি সুপরিচিত। নুরানাং নদীর গতিপথ থেকে তৈরি এই নির্ঝরিণী বর্ষার মরশুমে এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। ঘন সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে দুধের মতো সাদা জলের ধারা যখন ধাপে ধাপে নেমে আসে, তখন চোখ জুড়িয়ে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
হোগেনক্কল জলপ্রপাত
তামিলনাড়ুর ধর্মপুরী জেলায় কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রপাত। কন্নড় ভাষায় এর নাম ‘ধোঁয়া ওঠা পাথর’। ছোট-বড় প্রায় ১৪টি ধারায় জলপ্রপাতটি নীচে নেমে আসে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন বিশাল পাথর থেকে জলের বাষ্প উঠছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জলপ্রপাতের পাদদেশে ঐতিহ্যবাহী ঝুড়ি-নৌকায় ভাসার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও মেলে।
ছবি: সংগৃহীত
শিবনসমুদ্র জলপ্রপাত
কর্নাটকের মাণ্ড্য জেলায় কাবেরী নদী থেকে জন্ম নিয়েছে এই জলপ্রপাত। বর্ষায় নদীর জল বাড়লে এর প্রস্থ প্রায় ১০০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। মূলত বারাচুক্কী এবং গগনচুক্কী—এই দুই মূল ধারায় জল ঝরে পড়ে। বেঙ্গালুরু বা মহীশূর থেকে সড়কপথে সহজে এখানে পৌঁছোনো যায়।
ছবি: সংগৃহীত
কুঞ্চিকল জলপ্রপাত
কর্নাটকের শিবমোগ্গা জেলার অগুম্বের ঘন অরণ্যে অবস্থান ভারতের এই সর্বোচ্চ জলপ্রপাতের। প্রায় ১৪৯২ ফুট উচ্চতা থেকে বর্ষার জলরাশি যখন গর্জন করে পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে, তখন চারপাশ বাষ্পীয় চাদরে ঢেকে যায়। নিরাপত্তার কারণে এলাকাটিতে যেতে হলে আগাম সরকারি অনুমতির প্রয়োজন পড়ে।
ছবি: সংগৃহীত
জোগ জলপ্রপাত
কর্নাটকের শিবমোগ্গা ও উত্তর কন্নড় জেলার সীমান্তে বিস্তৃত জোগ প্রপাত। এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। চারিদিকের ঘন সবুজ জঙ্গলের বুক চিরে বিশাল জলরাশি কয়েকটি শাখায় বিভক্ত হয়ে নীচে নেমে আসে। বর্ষায় এর গর্জন ও সৌন্দর্য এক অলৌকিক অনুভূতি তৈরি করে।
