এন্টালিতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন ওই তৃণমূল কর্মী তাপস নস্কর। ঘটনার পরেই খুনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একজনকে পাকড়াও করা হল। যদিও পুলিশের দাবি, এই ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। ধৃতকে আজই শিয়ালদহের এসিজেএম আদালতে পেশ করা হবে।
ধৃতের নাম ভোলা কর (৫০)। শনিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদে মিঠুন মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাপসের খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভোলার নাম ছিল বলে জানা গিয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ভোলা কর। নিজস্ব ছবি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে এলাকায় বিভিন্ন প্রমোটিং সংক্রান্ত কাজ করতেন তাপস। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় থানায়। নির্বাচনের আগে তাঁকে সতর্কও করা হয়। এমনকী ভোটের আগে তাপসকে নজরবন্দিও করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন তিনি। ভোট মিটতেই ফের এন্টালিতে ফেরেন তাপস। এরপরেই ৫ তারিখ গভীর রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এন্টালির চৌধুরী লেনে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন। পুলিশ এসে দ্রুত তাপসকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, তাপসের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। ঘটনার পরেই বেশ কয়েকজনের নামে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী। এর মধ্যে ভোলা করের নামও ছিল।
নির্বাচনের ফলাফলের পরেই এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, এন্টালির খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে ঝামেলা ছিল। বেশ কিছুদিন তাপস বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ঢুকতেই এই ঘটনা ঘটে।
