২০২১ সালে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভরা সভায় তাঁকে অপমান করেছিলেন। সেদিন থেকে উত্তরপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অচ্ছেলাল যাদব প্রতিজ্ঞা করেন, সাংসদকে যোগ্য জবাব না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দাড়ি কাটবেন না। সম্প্রতি বিজেপিতে যোগদান করেন আচ্ছেলাল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। ছেলের হারেই কল্যাণের হার দেখছেন আচ্ছেলাল। সাংসদকে রাজনৈতিকভাবে ধাক্কা দিয়ে যোগ্য জবাব তিনি দিয়েছেন। তাই ৫ বছর পরে নিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ করে দাড়ি কাটলেন আচ্ছেলাল।
উত্তরপাড়ার কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান ছিলেন আচ্ছেলাল। তিনি উত্তরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদেও ছিলেন। দলের জেলা কমিটি পদেও ছিলেন তিনি। সম্প্রতি ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। মূলত উত্তরপাড়ায় রাজনীতি করলেও হুগলি জেলায় তাঁর ভালোই প্রভাব রয়েছে। ২০২১ সালে কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূলের প্রধান আচ্ছেলালের সঙ্গে ভরা কর্মী সম্মেলনে বাকবিতণ্ডায় জড়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের অভিযোগ ছিল, কানাইপুরে তিনি নিজে জিতলেও লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ওই এলাকা থেকে পরাজিত হয়। বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগসাজস রয়েছে বলেও ভরা সভায় আচ্ছেলালকে আক্রমণ করেন কল্যাণ। আচ্ছেলালের দাবি, অপমানিত হয়ে সেই দিন থেকে তিনি দাড়ি কাটেননি। সাংসদকে যোগ্য জবাব দিতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। সম্প্রতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগদান করে তৃণমূলকে হারাতে ময়দানে নামেন। নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্যের পরাজয়ের পরে পাঁচ বছরের পুরনো প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন আচ্ছেলাল। তাঁর দাবি, সাংসদকে যোগ্য জবাব দিতে পেরেছেন তিনি।
আচ্ছেলাল বলেন, "অহংকারীকে দমন করেছে উত্তরপাড়ার মানুষ। আজ আমার জন্য খুবই গর্বের দিন। রাজনৈতিকভাবে সাংসদকে ধাক্কা দিতে পেরেছি। তাই দাড়ি কাটলাম।"
