বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ফের হুমকি! তৃণমূলকে নিশানা করে এবার হুমকির সুর কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের গলায়। সাঁইথিয়ার জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজনাথের হুঁশিয়ারি, "বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের গুণ্ডারা হয় জেলে যাবে, নয়তো উপরে যাবে।" এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক বঙ্গ রাজনীতিতে।
ক্ষমতা। শব্দেই লুকিয়ে অর্থ। যার হাতে ক্ষমতা আছে, সে-ই রাজা। বাকিরা? বাকিরা তো আমজনতা। যাঁদের হাতেই তো আসল ক্ষমতা। আর এটাই হয়তো ভুলে যান নেতারা। নিজেদের পালে হাওয়া টানতে প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গে প্রচারের ঝড় তুলছেন গেরুয়াশিবিরের হেভিওয়েট মাথারা। শুধু নির্বাচনী প্রচার নয়, বিজেপির প্রচার মঞ্চ থেকে একের পর এক ধেয়ে আসছে হুমকি। ক্ষমতায় এলেই শুরু হবে অ্যাকশন! এমনই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তাঁরা।
গতকাল বড়জোড়ায় দাঁড়িয়ে মোদি বলেছিলেন, "২৩ ও ২৯ এপ্রিলের আগে বাংলার গুণ্ডারা আত্মসমর্পণ করুন, না হলে ৪ মে-র পর ফল ভুগতে হবে।" অর্থাৎ ভোটের আগেই সারেন্ডার করার হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন মোদি। কিন্তু রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) আরও একধাপ এগিয়ে। সাঁইথিয়ায় দাঁড়িয়ে একেবারে 'এনকাউন্টার' দাওয়াই দিয়ে গেলেন খোদ দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী! তৃণমূলকে নিশানা করে হুমকির সুরে রাজনাথ বলেন, "বিজেপি সরকারকে বাংলায় একবার এনে দেখুন, তৃণমূলের গুণ্ডারা সব ঘরে ঢুকে যাবে। হয় জেলে যাবে, নয়তো উপরে চলে যাবে।" ভোট আবহে এই 'হুমকি'র রাজনীতিতে তপ্ত বাংলা।
বঙ্গ বিজেপির নেতাদের মধ্যে হুমকি প্রতিযোগিতায় মোটামুটি এগিয়ে থাকেন দিলীপ বাবু। কিন্তু 'উড়ে আসা' পদ্মনেতারাও যে কম যান না। তা ভোট (Assembly Election 2026) আবহে বেশ টের পেলেন বাংলা মানুষ। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। কার্যত সিনেমার স্টাইলে অমিত শাহ বলে গিয়েছেন, 'চুন চুন কে হিসেব লেঙ্গে'। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মুখে আমজনতা শুনেছে 'বুলডোজার চালানোর' হুঁশিয়ারি। সোমবার জলপাইগুড়ির সভা থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, "একটা গুলি চালালে, দুটো গুলি চালাব।" প্রধানমন্ত্রীর 'সারেন্ডার' সাবধানীর পর এবার একেবারে উপরে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি রাজনাথের। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতায় এলে কী কী হবে, তা তো আগেই বাতলে দিচ্ছেন গেরুয়াদলের হেভিওয়েট নেতারা। এবার দেখার ভোটবাক্সে জনতার রায় তাঁদের সেই সুযোগ করে দেয় কি না।
