ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। কুয়েত-বাহরিনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জেরে কুয়েতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মৃত্যু হয়েছে একজন ভারতীয় নাগরিকের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাস।
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল্লা আল-সানাদ জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানবন্দর। মোট ৬৩ জন আহত হয়েছেন। একাধিক হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের পরেই ঘটনাস্থলে ২৫টি অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। এদিকে এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছে কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কুয়েত প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সবরকম সাহায্য করবে। কুয়েতের অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার হামলার জেরে বন্ধ রয়েছে দেশটির বিমান চলাচল।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য সাগর, হরমুজ প্রণালী ও কেশন দ্বীপে মার্কিন হানার ‘বদলা’ নিতেই তারা কুয়েতে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবিও করেছে তারা। এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে দেশের বহু অংশে। সেদেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইরানের সেনার শেয়ার করা একটি ভিডিওয় বাহরিনের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গিয়েছে। গত কয়েকদিনে যুদ্ধের আগুনে হাওয়া দিতে শুরু করেছে দুই পক্ষই।
সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতা বাঘের ঘালিবাফ স্পষ্ট করেন, ইরান আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না। প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হলেও আয়াতোল্লা খামেনেই জানিয়েছিলেন আমাদের আলোচনার টেবিলে বসা প্রয়োজন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এখন আর আলোচনার জায়গা নেই। ইরানের বহু শীর্ষ আধিকারিক প্রকাশ্যে আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সেই আগুন আরও গনগনে হয়ে ওঠার আশঙ্কাই সত্যি হল।
