ইরান-আমেরিকার সংঘাত (Iran US War ) ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে ইরানে বেড়াতে না যাওয়ার পরামর্শ তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। শুধু তাই নয়, যারা এই মুহূর্তে ইরানে রয়েছেন, অবিলম্বে তাঁদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানে টানা ৯ রাত মার্কিন হামলার মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে এই বিবৃতি।
রবিবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, 'নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের ইরান সফলে না যাওয়াই মঙ্গল।' পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যেই ইরানে রয়েছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দিয়ে লেখা হয়েছে, 'যদি সম্ভব হয় অবিলম্বে ইরান ছেড়ে চলে আসুন।' যুদ্ধের মাঝে যারা ফিরতে পারছেন না, তাঁদের পরিস্থিতির উপর নজর রেখে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও সামরিক তৎপরতা রয়েছে এমন সব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। জরুরি পরিস্থিতির জন্য ফোন ও ইমেলে হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য ফোন ও ইমেলে হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে।
গত শুক্রবার আমেরিকান সেনাঘাঁটিতে লাগাতার মিসাইল হামলা চালায় ইরান। তাতেই দুই আমেরিকান সেনার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজ আরও এক জওয়ান। আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। পাল্টা ইরানে লাগাতার এয়ার স্ট্রাইক শুরু করেছে আমেরিকান সেনাও। এর মধ্যে ইজ়রায়েলের সঙ্গেও উত্তেজনা বেড়েছে। তাদের উপরে মিসাইল হামলা হলে ‘পূর্ণশক্তিতে জবাব দেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে ফের রক্তাক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে ইরান-আমেরিকা। শনিবার জর্ডনে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয়েছে দুই মার্কিন সেনার। তারই বদলা নিতে ইরানে ফের গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমেরিকার হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সিরিকের নিকটবর্তী এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হাজিয়াবাদের কাছেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। হামলা হয়েছে কেশম দ্বীপেও। রবিবার রাতেও হয়েছে হামলা। তবে গোটা ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
