যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে ইজরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। যার জেরে হরমুজে নতুন করে উদ্বেগের মেঘ। এখনও পর্যন্ত এই বাণিজ্য পথ খোলার ঘোষণা করেনি ইরান। এই পরিস্থিতির মাঝেই জানা যাচ্ছে, হরমুজে আটকে পড়েছে চিনের দুটি পণ্যবাহী জাহাজ। যুদ্ধের মাঝেও এই পথে অবাধ যাতায়াত ছিল চিনের। এবার সেখানে ড্রাগন জাহাজ আটকে পড়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা।
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটার রিপোর্ট অনুযায়ী, 'কস্পাইরাল লেক' ও 'হে রং হাই' নামে চিনের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ গতিতে পূর্ব দিকে রওনা দিয়েছিল তবে হরমুজে এসে জাহাজ দুটি থেমে যায়। ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা যাচ্ছে, জাহাজদুটির গন্তব্য চিন। 'কস্পাইরাল লেক' নামের জাহাজটি চিনের কসকো শিপিং সংস্থার মালিকানাধীন। দ্বিতীয়টি চিনের একটি ছোট সংস্থার। এই ট্যাঙ্কারগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপকূলের কাছে হরমুজের (Strait of Hormuz) ঠিক আগে আটকে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে জল্পনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে তবে কী চিনের জাহাজকেও অনুমতি দিচ্ছে না ইরান?
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটার রিপোর্ট অনুযায়ী, 'কস্পাইরাল লেক' ও 'হে রং হাই' নামে চিনের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ গতিতে পূর্ব দিকে রওনা দিয়েছিল তবে হরমুজে এসে জাহাজ দুটি থেমে যায়।
তবে শুধু চিনা জাহাজ নয়, এই উপকূলে আটকে রয়েছে একাধিক ভারতীয় জাহাজও। অপরিশোধিত তেল বোঝাই ভারতীয় পতাকাবাহী 'দেশ বিভোর' নামে একটি জাহাজ নোঙর করা রয়েছে। এছাড়াও ওই অঞ্চলে কার্যত বন্দি একাধিক দেশের জাহাজ। হরমুজ প্রসঙ্গে ইরানের তরফে জানা যাচ্ছে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত জাহাজের উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। প্রতিটি জাহাজকে জানাতে হবে তার পেটে কী ধরনের পণ্য রয়েছে। তথ্যে সন্তুষ্ট হলে তবেই মিলবে ছাড়পত্র। ইরানের আধিকারিক হামিদ হোসেন বলেন, এই পদক্ষেপ এই জন্য করা হচ্ছে যাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে এই পথ দিয়ে অস্ত্রের আমদানি না হয়। জাহাজগুলিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু গোটা প্রক্রিয়া চালানো কিছু সময় সাপেক্ষ বিষয়। আর ইরানের বিশেষ তাড়া নেই। মনে করা হচ্ছে, চিনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ফের আটকে পড়েছে জাহাজগুলি।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, হরমুজ পার হতে এখন থেকে মোটা অঙ্কের টোল ট্যাক্স দিতে হবে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলিকে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, অবাধ যাতায়াতে দাঁড়ি টেনে জ্বালানিবাহী জাহাজ থেকে ব্যারেল পিছু নেওয়া হবে এক ডলার করে। তবে যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল তারা ৫টি দেশের জাহাজকে হরমুজে অবাধ যাতায়াতের অনুমতি দেবে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি ছিল, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক। তবে সেই ঘোষণার পর এবার হরমুজে চিনা জাহাজ আটকে পড়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা।
