মাসাধিক কাল যুদ্ধ চলার পর দু'সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক শর্তে শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে উভয়পক্ষ। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পূর্ণ জয় ঘোষণা করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, "বিশ্ব শান্তির জন্য একটা বড় দিন"।
ট্রাম্পের (Donald Trump) সুরে সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দাবি করেছেন, যুদ্ধে আমেরিকা সবকটি সামরিক লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে। যার মধ্যে রয়েছে ইরানকে সামরিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়া। হেগসেথ মন্তব্য করেছেন, "অপারেশন এপিক ফিউরি ছিল রণক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও অপ্রতিরোধ্য বিজয়,"। ট্রাম্পর দাবিকে মান্যতা দিয়েছে ইজরায়েলও। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে ইরান যুদ্ধ ছিল অস্বিত্বের লড়াই। ধুন্ধুমার যুদ্ধের পরে ইরান নিয়ে আর ভয় বা ভাবনার কিছু নেই।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধের শুরু থেকেই পরস্পর বিরোধী বিবৃতি দিয়েছে আমেরিকা। কখনও বলেছে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই উদ্দেশ্য, কখনও বলেছে তারা চায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। যদিও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ভাবনার মধ্যেই ছিল না ওয়াশিংটনের। যার ফলে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে তাদের। সবচেয়ে বড় কথা পাকিস্তানে বৈঠকের আগেই কীভাবে যুদ্ধজয় ঘোষণা করেদিলেন ট্রাম্প, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির পালটা বিবৃতি দেয়নি ইরান।
