নেপালের বিপর্যয়ের দিকে এখন গোটা দেশের চোখ। ভয়াবহ হড়পা বান কেড়েছে অন্তত ৫০০ প্রাণ! নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-ছবি দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। এই পরিস্থিতিতে এবার জানা যাচ্ছে, পাঁচ মাস আগের দু'টি রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছিল এহেন বিপর্যয়ের।
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের জনগণের স্বার্থে কর্মরত একটি আন্তঃসরকারি জ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক কেন্দ্র দুটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল এই অঞ্চলের হিমবাহগুলো ক্রমশ দ্রুতগতিতে গলছে। এবং নতুন সহস্রাব্দ শুরুর পর থেকে সিকি শতকে বরফ গলার হার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। পৃথকভাবে এবছরেরই মার্চে প্রকাশিত পৃথক দু'টি রিপোর্টে দাবি করা হয়, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিমবাহগুলির মোট এলাকার প্রায় ১২ শতাংশ গলে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
তবে ঠিক কেন এই বিপর্যয় ঘটেছে, তার সঠিক কারণ অবশ্য এখনও জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। যার মধ্যে অন্যতম কারণ তুষারপাতের মধ্যেই ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় অবিরল ধারাপাত! কেন্দ্রীয় সংস্থার এক বিজ্ঞানী সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বরফ গলার সঙ্গে এই নাগাড়ে বৃষ্টিপাতের নিশ্চিতভাবেই যোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এমন কোনও বিপর্যয় যে আসতে পারে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত ওই রিপোর্টগুলিতে ছিল।
উল্লেখ্য, বিপর্যস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। গ্রামকে গ্রাম চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে এখনও অবিশ্বাসের জলছাপ! কোনও রকম পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই বিপুল জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় এভাবে জনজীবনকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ছবি দেখে শিহরিত বিশ্ব। স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ। তবে কেন্দ্রের দাবি, যেটুকু যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা প্রাথমিক। বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে।
