হিমালয়ের রুদ্ররোষে ছারখার নেপাল। শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট্ট দেশটিতে। তারপরই ভারতকে সতর্কবার্তা দিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। মনে করিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ভারতকেও নেপালের মতো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। শিশিরের মতে, ভারত ও নেপালের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে বরাবর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে বাঁধা হয়েছে। কিন্তু এবার পরিবেশগত বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শিশির বলেন, "ভারত ও নেপালের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ককে আমরা বরাবরই 'রুটি-বেটি' কিংবা 'সীতা-রাম'-এর আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দিয়ে ব্যাখ্যা করে এসেছি। আমাদের ধর্মীয় ও সভ্যতার মেলবন্ধন অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ককে পরিবেশগত ও বাস্তুতান্ত্রিক সুরক্ষার নিরিখে নতুনভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।" নেপালের বিদেশমন্ত্রীর মতে, "হিমালয় গললে সমুদ্রে জলস্তর বাড়বেই। বুধবার সেই ভয়ানক ঘটনাটা আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। আচমকা জলস্তর বেড়ে গিয়ে নেপালের একের পর এক এলাকা ধ্বংস (Nepal Flash Flood) হয়ে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেসে গিয়েছে একের পর এক শহর।"
নেপালের এহেন পরিস্থিতি ভারতের পক্ষেও অশনি সংকেত, মনে করিয়ে দিয়েছেন শিশির। তাঁর কথায়, পরিবেশগতভাবে চিন, নেপাল, ভারত এবং ভুটান একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী দিনে হিমালয়ের পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখার উপরে। শিশির মনে করিয়ে দিয়েছেন, হড়পা বান এবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেনি। কিন্তু পরবর্তীকালে ভারতেও এমন বিপর্যয় হতেই পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলি মাথায় রেখে শত্রুতা ভুলে সবদেশের সচেতন হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, নেপাল বিপর্যয়ে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষ নেপাল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নেওয়া তথ্য ও নেপালে কর্মরত মিলিয়ে মোট ২৮৮ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন ২০০ জন। জয়সওয়াল এটাও জানান, যেটুকু যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা প্রাথমিক। বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে।
