সুকুমার সরকার, ঢাকা: তিন ছেলে পুলিশ আধিকারিক, তবুও দু’বেলা অন্ন জোটে না ৭০ বছরের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমের। পেটের জ্বালা মেটাতে হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে নিতে হয়েছে তাঁকে। মাথা গোঁজার ঠাই বলতে একটি ব্রিজের পাশে ভাঙা ঝুপড়ি।
বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাসিন্দা বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। ছয় সন্তানের জননী তিনি। সন্তানরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তবুও মায়ের খোঁজ নেয় না কেউ। তাঁর দুর্দশার কথা শুনলে আপনা থেকেই চোখে জল চলে আসে। মনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে ফারুক হোসেন, নিসার ও জসিমউদ্দিন পুলিশে উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। একমাত্র মেয়ে মরিয়ম পেশায় শিক্ষক। বাকি দুই ছেলে শাহাবউদ্দিন ও গিয়াসউদ্দিন ব্যবসা করেন। সকলেই প্রায় স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করছেন। তবে বৃদ্ধা মার কথা যেন কারও মনেই নেই। যাঁর গর্ভে ন’মাস থেকে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন তাঁরা, আজ সেই মার মুখেই খাবার তুলে দিতে নারাজ তাঁরা।
[চোখের জলে দিন গুনছেন শিকলে বাঁধা এই মা]
উপায় না পেয়ে সহায়-সম্বলহীন ওই বৃদ্ধা এখন ভিক্ষা করে দিন গুজরান করছেন। সত্তর ছুঁই ছুঁই ওই মহিলার প্রতি সদয় হয়ে স্থানীয়রা মাঝে মধ্যে এটা সেটা দিয়েও যান। ঝড়-বাদলা থেকে মাথা বাঁচাতে বাবুগঞ্জের ব্রিজের ধারে একটি ঝুপড়িই ভরসা মনোয়ারা বেগমের। কয়েকদিন আগে ভিক্ষা করতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। প্রচণ্ড চোট পান কোমরে। তারপর থেকেই একপ্রকার শয্যাশায়ী তিনি। ভিক্ষা করতে রোজ বেরোতে পারেন না। ফলে প্রায়ই অনাহারে থাকতে হয় তাঁকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গিয়াসউদ্দিন নামের বৃদ্ধার এক ছেলে জানান তাঁর পক্ষে মার চিকিৎসার ভার নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, তিন দাদা পুলিশে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তাঁরা। তবে মার দায়িত্ব নিতে চান না কেউই।
অনাহারে অবহেলায় এখন কার্যত মৃত্যুপথযাত্রী মনোয়ারা বেগম। ছেলেদের কথা জিজ্ঞেস করলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। দুই চোখে ফুটে উঠে অব্যক্ত যন্ত্রণা। আজ সমস্ত রং মুছে গিয়ে তাঁর কাছে জীবন শুধুই সাদা-কালো।
[সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই ছাত্রীকে ঝাড়ফুঁক গুনিনের!]
The post তিন ছেলে পুলিশ অফিসার, তবুও ভিক্ষা করেন মা appeared first on Sangbad Pratidin.
