shono
Advertisement
Afghanistan

নদী ছেঁকে সোনা তোলার হিড়িক, 'এল ডোরাডো' মায়ায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের জীবন-জীবিকা

কৃষিকাজ ও পশুপালন যেখানকার মানুষ মূল জীবিকা, সেখানে সোনার খনি ওলট পালট করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভূ-প্রকৃতি। তথ্য বলছে, সোনার অভিশাপে মাথা খুঁড়ছেন আফগানিস্তানের উত্তর–পূর্বের বাদাখশান প্রদেশ।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 03:00 PM Aug 10, 2026Updated: 04:52 PM Aug 10, 2026

নদীর কাদামাটি ছেঁকলেই মিলছে বহুমূল্য সোনালি ধাতু। আফগানিস্তানের মতো গরিব রাষ্ট্রের কাছে এই ঘটনা আশীর্বাদ মনে হলেও, বাস্তবে তা 'অভিশাপ' হয়ে উঠেছে সেখানকার সাধারণ মানুষের জন্য। কৃষিকাজ ও পশুপালন যেখানকার মানুষ মূল জীবিকা, সেখানে সোনার খনি ওলট পালট করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভূ-প্রকৃতি। তথ্য বলছে, সোনার অভিশাপে মাথা খুঁড়ছেন আফগানিস্তানের উত্তর–পূর্বের বাদাখশান প্রদেশ।

Advertisement

বাদাখশান প্রদেশের রাজধানী ফয়জাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শিওয়া অঞ্চল। এই অঞ্চলেই খোঁজ মিলেছে সোনার খনির। তালিবান সরকার এই অঞ্চলে সোনা উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। হাজার হাজার খনি শ্রমিক এই অঞ্চলে কাজ করছেন। পাহাড়গুলো থেকে সোনা উত্তোলনের জন্য ডজনখানেক খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিনরাত কাজ করছে। শুরুতে এলাকার বাসিন্দারা এই সোনা উত্তোলনের জেরে লাভবান হলেও, বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির জন্য তাঁরা অনুতপ্ত। এদেরই একজন স্থানীয় কৃষক মহম্মদ আমিন। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ''আগে এই নদীটি গভীর ছিল, জল ছিল স্বচ্ছ। তবে খনন শুরু হওয়ার পর এই জল ব্যবহারের অনুপযোগী। নদী তীরের সব ঘাস শেষ হয়েছে। ধুলো-বালি ও দূষণের জেরে আর এখানে চাষবাস সম্ভব নয়।" খনি সংস্থাকে ২০ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজের জমি ইজারা দিয়েছিলেন আমিন। তবে দাবি মতো অর্থ তিনি এখনও পাননি।

গত বছর বাদাখশান থেকে সরকার ১১২ কিলো (২৪৭ পাউন্ড) সোনা সংগ্রহ করেছে। জানা যাচ্ছে, প্রতি গ্রাম সোনার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১১৮ ডলার।

এদিকে রিপোর্ট বলছে ৫ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর খননকাজের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে জোর দিয়েছে। বাদাখশানের খনি বিভাগের প্রধান আবদুল মাতিন রহিমজাই বলেন, ৬৫০ থেকে ৭০০টি সংস্থাকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ সোনা উত্তোলনের কাজ করছেন। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় আয় বাড়াতে ২০২১ সালের পর শত শত খনি সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। এই খাতের জিডিপি ২৫-৩০ শতাংশ হয়েছে। খনি বিভাগের প্রধান রহিমজাই জানান, গত বছর বাদাখশান থেকে সরকার ১১২ কিলো (২৪৭ পাউন্ড) সোনা সংগ্রহ করেছে। জানা যাচ্ছে, প্রতি গ্রাম সোনার বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১১৮ ডলার। এদিকে খনন সংস্থাগুলিকে প্রতি হেক্টর জমির জন্য মাসে ২০ গ্রাম সোনা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ কর হিসেবে দিতে হচ্ছে তালিবান সরকারকে। পরিবেশগত ক্ষতির কারণে ২২৫টি খনি বন্ধও করেছে সরকার।

বিশ্বব্যাংক তাদের মে মাসের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ২০২১ সালের পর থেকে শত শত খনিসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এ খাতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে হয়েছে। খনি শ্রমিকরা ভালো মজুরিতে কাজও করছেন। কিন্তু সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয়রা। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সোনা উত্তোলনের জেরে সোনার খনি কার্যত 'অভিশাপ' হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, খনির জেরে প্রদেশের বহু জায়গায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে। বাদাখশান প্রদেশের কিছু এলাকা খননের জন্য চিহ্নিত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সোনা উত্তোলন শিল্প এখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কোনও উপকারে আসে না। এতে শুধু ক্ষমতাবান লোকেরাই লাভবান হন। আর এর চিরস্থায়ী ক্ষতি পোহাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement