আমেরিকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা। মার্কিন বায়ুসেনার অন্যতম ভরসার পরমাণু শক্তিধর যুদ্ধবিমান বি-৫২ ভেঙে পড়ল ক্যালিফোর্নিয়াতে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটির কাছেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনায়। এই ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একইদিনে রাশিয়াতেও ভেঙে পড়েছে আর এক পরমাণু শক্তিধর যুদ্ধবিমান টিইউ-২২এম৩।
মার্কিন বায়ুসেনার তরফে জানা যাচ্ছে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সকাল ১১.২০ নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। লস এঞ্জেলসের উত্তরপ্রান্তে বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে পরীক্ষামূলক উড়ান ভরেছিল বিমানটি। তবে আকাশে ওড়ার পরমুহূর্তেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে। দুর্ঘটনার সময় বিমানে ৮ জন সওয়ার ছিলেন। তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতদের তালিকায় রয়েছেন মার্কিন সেনা জওয়ান, ইঞ্জিনিয়র এবং টেকনিশিয়ান। অন্যদিকে, রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভেঙে পড়ে রুশ বিমানটি। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে সওয়ার ছিলেন ৪ জন। যদিও শেষমুহূর্তে তাঁরা প্রত্যেকেই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পাইলটদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁরা সকলেই সুস্থ রয়েছেন। রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে যাত্রিক ত্রুটির জেরেই এই দুর্ঘটনা।
বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গ্যাজেত্তির মতে, টেকঅফের পর কোনওভাবে বিমানটি উপরের দিকে উঠতে ব্যর্থ হয়। হতে পারে ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল।
কীভাবে এই দুর্ঘটনা তা এখনও স্পষ্ট না হলেও, বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গ্যাজেত্তির মতে, টেকঅফের পর কোনওভাবে বিমানটি উপরের দিকে উঠতে ব্যর্থ হয়। হতে পারে ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল। তাঁর কথায়, "সম্ভবত রক্ষণাবেক্ষণের পর কন্ট্রোল সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, অথবা ইঞ্জিন বিকল হয়েছে, কিংবা কোনও যন্ত্রপাতিতে সমস্যা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক এই উড়ানগুলো সাধারণ উড়ানের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এর জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পাইলট এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়।
মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান। ফাইল ছবি।
উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের বি-৫২ যুদ্ধবিমান হল দূরপাল্লার বোমারু বিমান যা পারমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং ভিয়েতনাম থেকে ইরান পর্যন্ত অসংখ্য যুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে, পুরোনো রাডার বদলে বিমানটিতে একটি নতুন, আরও আধুনিক ও কার্যকর AESA রাডার সিস্টেম স্থাপন করা হয়। তবে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতেও একই প্রযুক্তি ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, রাশিয়ার টিইউ-২২ বিমানের আধুনিক সংস্করণ হল টিইউ-২২এম৩। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই বিমান Kh-22 (AS-4 Kitchen) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক কিনঝাল 'ড্যাগার' ক্ষেপণাস্ত্রও বহন করতে সক্ষম।
