এবার বুলডোজার চলল কৃষ্ণনগর স্টেশনে। আজ স্টেশন চত্বরে এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতি হয় সিপিআইএম, সিটু, এসইউসিআইয়ের কর্মীদের। যদিও উচ্ছেদ অভিযানে সফল হয়েছে রেল। বুলডোজার চালিয়ে স্টেশনের উপরে থাকা সমস্ত অবৈধ দোকান, নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে সিটুর একটি দলীয় কার্যালয়ও।
জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ ১৬ জুনের মধ্যে রেলের জায়গায় ও কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে থাকা সমস্ত দোকান ও অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে দেওয়ার নোটিস আগেই জারি করা হয়েছিল। এই নোটিস পেয়ে ১৫ তারিখ রাতেই বহু ব্যবসায়ী নিজেদের দোকান সরিয়ে নেয়। আজ নির্ধারিত সূচি মেনে উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল। কিন্তু তার আগেই স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সিপিআইএম, সিটু, এসইউসিআই-সহ বিভিন্ন হকার সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা। উচ্ছেদ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতি হয়। যদিও অভিযানে সফল হয়েছে রেল। বিক্ষোভ সত্ত্বেও অবৈধ নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক এই ঘটনায় বিজেপি-সহ পুলিশ প্রশাসন ও রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
গত কয়েকদিন ধরেই রেলের জমিতে থাকা বেআইনি দখলদার সরানোর অভিযান চলছে। শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন তো বটেই, প্রায় সব স্টেশনেই দখলমুক্ত করার অভিযানে নেমেছে আরপিএফ ও রেল পুলিশ। এর আগে যাদবপুরে স্টেশনের ধারে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ এবং হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখানে সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা চলে আসায় উত্তেজনা বাড়ে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হন যাদবপুরের ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা। এরপরই হকারদের সাময়িক স্বস্তি দেয় আদালত। আগামী ১৭ জুন অর্থাৎ আগামীকাল পর্যন্ত যাদবপুরে হকার উচ্ছেদের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে হাই কোর্ট। কিন্তু রাজ্যের অন্যান্য স্টেশনে জারি রয়েছে উচ্ছেদ অভিযান।
