ফের জ্বলছে হরমুজ প্রণালী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি জাহাজে হামলা। এই নিয়ে হরমুজে তৃতীয় কোনও জাহাজ হামলার মুখে পড়ল। সূত্রের খবর, হামলার জেরে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যতরীটি। তবে জাহাজের নাবিকরা প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছেন।
ব্রিটেনের সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে যাওয়ার সময় বাণিজ্যতরীটিতে আচমকা অজ্ঞাত একটি বস্তু এসে আঘাত হানে। এর জেরে জাহাজটির কাঠামোর সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনও জাহাজকর্মী বা নাবিকের কোনও ক্ষতি হয়নি। পরে জাহাজটি তার পরবর্তী গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। কিন্তু এই হামলাটি কে বা কারা চালাল, তা এখনও জানা যায়নি। ইরানের সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে, বাণিজ্যতরীটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ছিল। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পরই জাহাজটি হামলার শিকার হয়। যদিও তেহরান সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। কাতারের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই হামলার কড়া নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার উপর একটি অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ। শুধু তাই নয়, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে একাধিকবার বৈঠকে বসছে তেহরান এবং ওয়াশিংটন। তবে হরমুজে লাগাতার অশান্তির জেরে শান্তিচুক্তি এখনও বিশ বাঁও জলে।
উল্লেখ্য, সোমবার হরমুজে দু’টি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভোলিউশন গার্ড। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে মউ স্বাক্ষর হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল আগামী ৬০ দিন হরমুজে সমস্ত বাণিজ্যতরী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু তারপরেও বারবার হরমুজে আক্রান্ত হচ্ছে জাহাজ।
