সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া পাকিস্তান নিজেই সন্ত্রাসের আগুনে দগ্ধ। অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় ফের রক্তাক্ত হল পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালোচিস্তান (Balochistan)। সোমবার শেষরাতে বালোচিস্তানের জিয়ারাত জেলায় সেনা ক্যাম্পে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল হামলাকারীরা। ভয়ংকর এই হামলায় দুই এসএইচও পর্যায়ের আধিকারিক-সহ অন্তত ৯ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও ৫ জন জওয়ানকে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় দেয়নি। তবে অভিযোগের আঙুল উঠছে 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' বা 'টিটিপি'-র দিকে। পাশাপাশি অন্য একটি সূত্র বলছে, এই হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ।
হামলার কথা নিশ্চিত করে জিয়ারাতের পুলিশ সুপার আবদুল কুদ্দুস বলেন, মাঙ্গি ফেজ ৩ এলাকায় একটি বাঁধ প্রকল্পের কাছে নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়। রাতভর হামলাকারীদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলে নিরাপত্তাবাহিনীর। এখনও পর্যন্ত এই হামলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে হামলাকারীরা। এদিকে এই হামলার পর পরই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে নামে পাক সেনার ফ্রন্টিয়ার কোর, বালোচিস্তান পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট, স্পেশাল অপারেশনস উইং এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম ফোর্স। এই অভিযানে টিটিপি-র ১৫ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অপহৃত পাঁচ সদস্যের খোঁজে জোরকদমে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
মাঙ্গি ফেজ ৩ এলাকায় একটি বাঁধ প্রকল্পের কাছে নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়। রাতভর হামলাকারীদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলে নিরাপত্তাবাহিনীর। এখনও পর্যন্ত এই হামলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কারা এই হামলার নেপথ্যে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে পাক সেনাকে নাকানি চোবানি খাওয়াচ্ছে বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচরা। পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। হামলার পিছনে স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে যথেষ্ট দাপট রয়েছে 'টিটিপি'-র। সাম্প্রতিক সময়ে পাক সেনার উপর একের পর এক হামলায় অভিযুক্ত এই সংগঠন। টিটিপিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আফগানিস্তানের মাটিতে দফায় দফায় এয়ার স্ট্রাইকও চালিয়েছে পাক বায়ুসেনা। যার জেরে যুদ্ধ শুরু হয়েছে দুই দেশের। ফলে হামলার নেপথ্যে টিটিপিও থাকতে পারে বলে মনে করছে পাকিস্তান সরকার।
