shono
Advertisement
China

প্রকৃতির খোলা হাওয়ায় দুলছে ইউনান! মাউথঅর্গানের সুরে যেন ‘পুরানো সেই দিনের কথা’

জনশ্রুতি, দালি শহরে এরহাই লেকের ধারে 'বুড়ো গাছ' নাকি সাড়ে ৬ কোটি বছর আগেও এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকত!
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:22 PM Jun 27, 2026Updated: 02:22 PM Jun 27, 2026

হাওয়া দিলেই ঢেউ ওঠে নীল জলে। হালকা রোদ গায়ে মেখে এরহাই লেকের পাশে ‘বুড়ো গাছে’র কাছে আড্ডার মেজাজে শহরের প্রবীণরা। তাঁদের একজনের মাউথ অর্গানে যে সুরটা ভেসে ওঠে, তার সঙ্গে কোথায় যেন মিল রয়েছে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’র। বাকিরা মাথা নেড়ে সুরে তাল দেন। আর কাছেই নবদম্পতি বা যুগলরা ব‌্যস্ত ফটোশুটে। একটু দূরে জলের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মেতুসুকয়ু গাছ। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে যখন চিনের ইউনানের দালিতে ‘এরহাই’ লেক তৈরি হয়েছিল, তখনও জলের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকত এই প্রাগৈতিহাসিক গাছ। তাই এলাকার মানুষ এই জীবন্ত জীবাশ্মকে ‘বুড়ো গাছ’ বলাই পছন্দ করেন।

Advertisement

ছবির মতো এরহাই হ্রদ ঘিরে চিনের ইউনানের দালি শহর। তার চারপাশ জুড়ে ছাংশান পর্বতমালা। পাহাড়ের চূড়ায় জমে থাকে থকথকে সাদা মেঘ। আর দালি জুড়ে সতর্কবার্তা, সবুজ পাহাড় না থাকলে সোনার পাহাড়, রুপোর পাহাড় কিছুই থাকবে না। তাই প্রকৃতি বাঁচিয়ে দালির এরহাই লেককে কাচের মতো পরিষ্কার করে তুলছে চিন। এই হ্রদের আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি। রয়েছে প্রচুর হোম স্টে। বিশেষ করে সাদা ও কালো রঙের ‘পাই’ সম্প্রদায়ের প্রচুর বাড়ি চোখে পড়ে। চিনের ইউনান সরকারের কড়া হুকুম, লেকের পাড় থেকে অন্তত ১৫ মিটার দূরে তৈরি করতে হবে বাড়ি বা হোম স্টে। তার জন‌্য বেশ কিছু ঘরবাড়ি সরিয়ে দিয়ে পুনর্বাসনও দেওয়া হয়েছে। ছাংশাল পর্বতমালা-সহ দালির বিভিন্ন জায়গার ১১৭টি নদী ও নালার জলে পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটারের এরহাই হ্রদ। তার মধ্যে ২৭টি বড় নদ ও নদী।

ছবির মতো এরহাই হ্রদ ঘিরে দালি শহর, চারপাশে জুড়ে ছাংশান পর্বতমালা। পাহাড়ের চূড়ায় জমে থাকে থকথকে সাদা মেঘ। নিজস্ব ছবি

আবার বর্ষায় যখন লেকের জল বেড়ে ওঠে, তখন তা চলে যায় নদী-নালা বেয়েই। শীতকালে এই লেকে আসে প্রায় এক লাখ বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখি। তাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে দালির বাতাস। এই হ্রদে রয়েছে প্রায় ৫০ রকমের মাছ ও চিংড়ি। তাই পাখির খাবারের অভাব হয় না। বরং লেকের আশপাশে জলাজমিতে অনেকদিনের জন‌্য থেকে যায় কয়েকটি প্রজাতির পাখি। আরহাইয়ের জল ঝকঝকে আর কাচের মতো হলেও মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে তার পাড়ে জন্ম নেয় একরকমের ফুল ‘হাই তাই খোয়া’। সেই ফুলে শুধু সৌন্দর্য রয়েছে তা নয়, রয়েছে স্বাদও। সুস্বাদু সেই ফুলের সু‌বাস চিনে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

এরহাইয়ের চারপাশে ভাড়ার সাইকেল বা ই-বাইকে করে ঘুরে বেড়ান বহু পর্যটক ও এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের ফটোশুট করতে আসেন বহু দম্পতি ও যুগল। নিজস্ব ছবি

যদিও চিন সরকারের প্রতিনিধিরা জানালেন, এরহাইকে দূষণমুক্ত করে তোলার জন‌্য বেশ কিছু পন্থা নিতে হয়েছে। এই হ্রদে কোনওরকম ময়লা ফেলতে দেওয়া হয় না। বর্জ‌্য জল এক জায়গায় জমানো হয়। তা যাতে কোনওভাবেই লেকে গিয়ে না পড়ে, সেই ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে যাতে কারখানার বর্জ‌্যও হ্রদ বা নদী-নালার জলে এসে না পড়ে, তা দেখা হয়। হ্রদ দূষণমুক্ত করার জন‌্য নদীনালার পাশে যত কৃষিকাজ হয়, তাতে ব‌্যবহার করা হয় জৈব সার। কোনও ধরনের রাসায়নিক সার ব‌্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এরহাইয়ের আশপাশের বসতির যাবতীয় বর্জ‌্য পাইপলাইন দিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ট্রিটমেন্ট প্ল‌্যান্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার ফলে ছড়িয়ে পড়ে না দূষণ।

এরহাই হ্রদের আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি, প্রচুর হোম স্টেও। নিজস্ব ছবি

এরহাইয়ের চারপাশে ভাড়ার সাইকেল বা ই-বাইকে করে ঘুরে বেড়ান বহু পর্যটক ও এলাকার বাসিন্দা। ছবির মতো এই হ্রদের ধারে বিয়ের ফটোশুট করতে আসেন বহু দম্পতি ও যুগল। এলাকার অনেক মানুষের সময় কেটে যায় পাড়ে বসে ছিপে মাছ ধরে। আবার অনেক পর্যটক ক্রুজে করে পৌঁছে যান ‘লিটল পুটুও’ বা ‘জিনসুও’ দ্বীপে। আবার কেউ চলে যান হ্রদের ধারে চিত্রপটের মতো গ্রাম শিঝৌ বা শুয়াংলাংয়ে, যার প্রত্যেকটি বাড়ি বা হোম স্টে-র জানালা অথবা ছাদ থেকে দেখা যায় এরহাই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement