সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলেই মার্কিন নাগরিক হতে পারবে, আইনের এই অধিকারের বিরোধিতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় জয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব খারিজ সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এনিয়ে বিচারবিভাগ সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব নিতে পারে না। চাইলে প্রেসিডেন্ট নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে পারেন এবং তাতে জন্মসূত্রে আমেরিকান হওয়ার বিষয়টি বাতিল হতেও পারে। এর আগে আমেরিকার তিনটি আদালত ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু সে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বড়সড় জয় হল মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংবাদমাধ্যমের বলেন, ''আমার দারুণ জয়! সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের জন্য আমি বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।'' এও জানান, এবার তিনি নয়া নীতি প্রণয়নের পথে এগোবেন। এতদিন যেভাবে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার ছিল, তা রদ করা হবে। পাশাপাশি রূপান্তরিত নাগরিক এবং পরিযায়ীদেরও প্রবেশও কড়াকড়ি হবে। তাঁদের জন্য যাঁরা অর্থসাহায্য করে, নজরদারি চলবে তাঁদের উপরও।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার আমেরিকার মসনদে বসার পরই নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের আভ্যন্তরীণ সুরক্ষার যুক্তি দিয়ে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে কাটছাঁটের কথা বলেন তিনি। তার মধ্যে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কারণ, তাঁর মতে, অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির নেপথ্যে এই বিষয়টি অন্যতম। তাই নাগরিকত্ব আইন বদল সংক্রান্ত 'এক্সিকিউটিভ অর্ডার' বা আদেশনামায় সইও করেন। কিন্তু তাতে বাধা দেয় সে দেশের মোট তিনটি আদালত। তবে শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্তৃত্বই সর্বোচ্চ, তার উপরে যেতে পারে না বিচারবিভাগ।
