মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘেরাটোপে বন্দি কিউবা। কমিউনিস্ট এই দেশে অর্থনৈতিক সংকট এতটাই গুরুতর আকার নিয়েছে যে পেটের ভাত জুটছে না সেখানকার মানুষের। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে কিউবার পাশে দাঁড়াল চিন। শনিবার বেজিংয়ের তরফে কিউবায় ১৫ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠানো হয়েছে। এর জেরে অনটনের মুখে পড়া দেশটির ৯৬ লক্ষ মানুষের পেট ভরবে। পাশাপাশি দফায় দফায় আরও ৪৫ হাজার টন খাদ্যসামগ্রী কিউবায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
কিউবাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে নতুন করে দেশটির উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। যার জেরে সেখানে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সংকট বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নানা পারিপার্শ্বিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। ট্রাম্পের লক্ষ্য, কিউবার সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে উৎখাত করা। তবে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেও যখন উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না, তখন সরাসরি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের পথ খুঁজতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। অনেকটা ভেনেজুয়েলার কায়দায় কিউবাকে জব্দ করতে সেখানকার বিপ্লবী নেতা রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মার্কিন বিচারবিভাগ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিকোলাস মাদুরোর মতো অপহরণ করা হতে পারে কাস্ত্রোকে।
কিউবায় চলতে থাকা জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেখানে ৬০ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে কিউবার জনগণের পাশে দাঁড়াল চিন। কিউবায় চলতে থাকা জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেখানে ৬০ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠানোর ঘোষণা করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, চিনের সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় এই খাদ্যশস্য দান করেছেন কিউবাকে। সেই পণ্যই দফায় দফায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশটিতে। শনিবার প্রথম দফায়, চিনের এক জাহাজ ১৫ হাজার টন খাদ্য নিয়ে হাভানা বন্দরে পৌঁছয়। সেখানে চিনের নাগরিকদের সংবর্ধনা জানান সেদেশের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকরা। এই পণ্য দেশটি সমস্ত প্রদেশে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্দিনে এই সাহায্যের জন্য চিনকে ধন্যবাদ জানান কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। তিনি বলেন, 'কিউবা ও চিন যৌথভাবে এক সহযোগিতামূলক সমাজ গড়ে তোলার দৃঢ় রাজনৈতিক লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। এই সংকল্প থেকেই চিনের জনগণ, কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের পাঠানো ১৫ হাজার টন চাল আমরা গ্রহণ করছি এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গভীর বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন আমাদের দুই দেশকে এক করে রেখেছে। এই কংকটের সময়ে তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই লড়াইয়ে কিউবা একা নয়।'
