আমেরিকার তরফে হরমুজ তথা ইরানের বন্দর অবরোধে তেতে উঠল চিন। কড়া সুরে চিনের তরফে আমেরিকাকে বার্তা দেওয়া হল, আমাদের বিষয়ে নাক গলাতে আসবেন না। আমেরিকার তরফে হরমুজ অবরোধের জেরে সম্প্রতি ফিরে আসতে হয়েছে চিনের এক জাহাজকে। এই ঘটনার পরই আমেরিকাকে সতর্ক করল বেজিং। গোটা ঘটনায় হরমুজকে কেন্দ্র করে চিন-আমেরিকার কূটনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন বলেন, বেজিং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে নিজেদের জ্বালানি ও বাণিজ্য চুক্তিকে তারা সম্মান করে এবং এক্ষেত্রে কোনও বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। স্পষ্ট ভাষায় চিনের তরফে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই জলপথ চিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। চিনের পাশাপাশি হরমুজে মার্কিন হস্তক্ষেপে যারপরনাই ক্ষুব্ধ আরও বহু দেশ। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোব্লেস মার্কিন অবরোধকে অযৌক্তিক ও বেআইনি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি এই ধরনের পদক্ষেপ গোটা বিশ্বকে বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও আমেরিকার এহেন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, এই জলপথ সব দেশের জন উন্মুক্ত রাখা উচিত।
চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন বলেন, বেজিং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে নিজেদের জ্বালানি ও বাণিজ্য চুক্তিকে তারা সম্মান করে এবং এক্ষেত্রে কোনও বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য চিনের কাছে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই ৪০ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ এনএনজি আমদানি করে বেজিং। ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করে রাখায় চিনের জাহাজও আটকে পড়েছে। তাতেই বিপাকে পড়েছে বেজিং। এদিকে পাকিস্তান চলা শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আর্থিকভাবে ইরানকে বিপাকে ফেরতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক দেওয়া যেকোনও জাহাজকে আটক করবে মার্কিন সেনা। অবৈধভাবে ইরানকে শুল্ক দেওয়া কেউই সমুদ্রে নিরাপদ নয়। যদি ইরান আমাদের বা জাহাজের উপর হামলা করে তবে ওদের নরকে পাঠানো হবে।’ পাশাপাশি মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা অবরোধ করবে তারা।
অন্যদিকে ইরানের তরফে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘এই অঞ্চলের বন্দরগুলির নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নাহলে কারও জন্য থাকবে না। যদি ইরানের বন্দরকে নিশানা করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।’
