বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘কারেক্স’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোষণা করেছেন, যদি হরমুজ সঙ্কট অব্যাহত থাকে তাহলে তাঁরা তাঁদের পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হবেন। মালয়েশিয়া-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের কন্ডোম সারা বিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে কন্ডোম নির্মাণের মূল কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে। যদি এই অবস্থা চলতেই থাকে, সেক্ষেত্রে কন্ডোমের দাম বাড়াতে বাধ্য হবে সংস্থা।
সংস্থার প্রধান গোহ মিয়া কিয়াত জানাচ্ছেন, প্রতি বছর ৫০০ কোটি কন্ডোম তৈরি করে তাঁদের সংস্থা। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উৎপাদনের খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এবার পণ্যের দাম তাঁরা ৩০ শতাংশ বাড়াতে চলেছেন।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে কন্ডোম নির্মাণের মূল কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে। যদি এই অবস্থা চলতেই থাকে, সেক্ষেত্রে কন্ডোমের দাম বাড়াতে বাধ্য হবে সংস্থা।
জানা যাচ্ছে, হরমুজ দিয়ে সারা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়। এর সঙ্গে রয়েছে অন্য পেট্রোকেমিক্যালও। অ্যামোনিয়া, সিলিকন-নির্ভর লুব্রিক্যান্ট, ল্যাটেক্সের অভাব হওয়াতেই কারেক্সের মতো সংস্থাদের নাভিশ্বাস উঠছে। অথচ এই সময়ে কন্ডোমের চাহিদাও বাড়ছে। কেননা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় বাড়ছে। গোহ মিয়া কিয়াত বলছেন, ''আজকের দিনে সন্তান হওয়া মানেই আরও একজনের গ্রাসাচ্ছেদনের ব্যবস্থা করতে হবে। যা এই পরিস্থিতিতে কঠিন হয়ে উঠেছে।''
কারেক্সের মতো সমস্যায় ভারতের কন্ডোম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিও। তালিকায় রয়েছে সরকারি কন্ডোম প্রস্তুতকারী সংস্থা এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড। প্রতি বছর এই সংস্থা ২২১ কোটি কন্ডোম নির্মাণ করে। বিপাকে পড়েছে ম্যানকাইন্ড ফার্মা, কুপিড লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলিও।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে অব্যাহত ইরানি আগ্রাসন! দু’টি জাহাজকে বাজেয়াপ্ত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তাদের মধ্যে একটি ছিল ভারতগামী। বর্তমানে জাহাজ দু’টিকে তেহরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে যতদিন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ততই জটিল হচ্ছে। আর তার প্রভাব পড়ছে রান্নার গ্যাস থেকে কন্ডোম- সব ক্ষেত্রেই।
