মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের স্ত্রী জেনিফার র্যাচেতের পরনের গোলাপি পোশাক ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। হোয়াইট হাউসে নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। গত বেশ কয়েকদিন ধরে চর্চায় ওই পোশাক। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ছবি। যা দেখে অনেকেরই মন্তব্য, ওই পোশাকের দাম ভারতীয় মুদ্রায় হাজার চারেক টাকার বেশি নয়।
দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনের ওয়েবসাইটে একই ডিজাইনের পোশাক বিকোচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। সঙ্গে থাকা স্টিভ ম্যাডেন স্যান্ডালটির দাম ১৩ হাজারা টাকা বলে দাবি। এমনকী, যে ব্যাগটি হাতে রয়েছে সেটিও আমাজনে সহজলভ্য বলেই দাবি নেটিজেনদের। প্রশ্ন উঠছে, 'আমেরিকা ফার্স্ট' রাজনৈতিক আবহে কেন বিদেশি, তাও সস্তা পোশাক পরবেন হেগসেথের স্ত্রী! যেখানে হেগসেথের বক্তব্যে সব সময়ই জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রতিফলন! ফ্যাশন দুনিয়ার আরেক নামী ব্যক্তিত্ব ডায়েট প্রদা জানিয়েছেন, এই প্রথম যে জেনিফার এমন পোশাক পরলেন তা নয়। এর আগেও অনলাইনে কেনা সস্তা পোশাক পরে বড় পার্টি বা জমায়েতে আসতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
রাজনৈতিক বিতর্ক সরিয়ে রাখলে এই ঘটনায় ‘ফাস্ট-ফ্যাশন’ শিল্পের ওপরই নতুন করে নজর পড়ছে ওয়াকিবহাল মহলের। Shein এবং Temu-র মতো সংস্থার পোশাক পরেছিলেন জেনিফার। এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, শ্রমিক শোষণের মাধ্যমেই তারা এত কম দামে পোশাক বিক্রি করতে পারে। সেই সংস্থার পোশাক কেন পরলেন জেনিফার, এই নৈতিকতার প্রশ্নও উঠছে।
তবে এই সমালোচনার সঙ্গে সবাই একমত নন। কেউ কেউ জেনিফারের পক্ষও নিয়েছেন। তাঁদের মতে, বরং এই ধরনের পোশাক তাঁর সহজতাকেই ফুটিয়ে তুলছে। পাশাপাশি সেলেব্রিটিদের যে দামি ডিজাইনার পোশাক পরতেই হবে এই চিরাচরিত ধারণাকেও তা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আবার কারও মতে, যদি জেনিফার একটি বিলাসবহুল গাউন পরতেন, তাহলে হয়তো তাঁকে অভিজাত্যের জন্য আক্রমণ করা হত।
