১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই। আপাত শান্ত নিস্তরঙ্গ সমুদ্র। সেখানে চক্কর কাটছে একটি মার্কিন রণতরী সিএ-৩৫। আচমকাই সেদিক লক্ষ্য করে ছুটে এল জাপানি ডুবোজাহাজ। মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল সেই জাহাজটি। জলে ছিটকে পড়েন ৯০০ জন! তাঁদের মধ্যে ৩১৬ জনই মাত্র বাঁচতে পেরেছিলেন। বাকিরা পানীয় জলের অভাব, হাঙরের আক্রমণের মতো নানা কারণে বাঁচতে পারেননি। আট দশক পরে ইতিহাসের কিনারে ভেসে উঠল সেই স্মৃতি। নেপথ্যে ইরানের বায়ুসেনার কমান্ডার শাহরাম ইরানি। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরি শত্রুদের উপরে তাঁরা হামলা করতে চলেছেন নতুন এক অস্ত্র দিয়ে। যা আমেরিকার 'হৃৎকম্প' ঘটাবে।
মনে করা হচ্ছে, সেই অস্ত্র হল হুট। যা বুলেটের গতিতে মুহূর্তে ফালাফালা করে দিতে পারে শত্রু জাহাজ ও রণতরীকে। ইরানির কথায়, ''এটা ওদের দিকেই তাক করা আছে। আশা করি ওদের হার্ট অ্যাটাক হবে না।'' প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান বলছেন ইরানি সম্ভবত হুট নামের অস্ত্রের কথাই বলছেন। যদিও তা একেবারে নতুন নয়। ২০০৬ সালে প্রথমবার পরীক্ষা করা হয়েছিল সেই অস্ত্রের। এর গতি এত বেশি যে তা মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে শত্রুদের জাহাজ। সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ৩৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
তবে যদি সত্যিই ওই অস্ত্রের কথা ভেবে থাকে ইরান, সেক্ষেত্রে কিন্তু সমস্যাও রয়েছে। হুটকে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়নি। গতি, শব্দ, বুদবুদের কারণে এগুলোকে নির্ভুলভাবে চালনা করা অত্যন্ত কঠিন। অন্যদিকে ইউএসএস আব্রাহামের মতো মার্কিন রণতরীকে ধ্বংস করাটাই চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে ওই জাহাজের অনেকটাই কাছাকাছি যেতে হবে। কারণ ‘হুট’-এর পাল্লা মাত্র ১৫ কিলোমিটার। অত কাছাকাছি থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করা এবং তাও ধরা না পড়ে, প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের আস্ফালনের পরও একটা 'সন্দেহ' থেকেই যাচ্ছে।
