চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে জি২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বার্ষিক সম্মেলন হবে আমেরিকায়। সেখানে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বছরে ভারতে আসতে পারেন, জানালেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কঠোর শুল্ক নীতি থেকে সরে আসার পরেই উভয় দেশের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে জি২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মোদিকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিবৃতি দেয়নি। পাশাপাশি গোর জানিয়েছেন, আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের (ইউএস মিডটার্মস ইলেকশন) কারণে ডিসেম্বরে ভারতে আসছেন না ট্রাম্প। বরং আগামী বছরের কোনও একটা সময় দিল্লি সফরে আসতে পারেন তিনি। গোর বলেন, জি২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার সময় মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত, সেকথাও জানিয়েছেন গোর। সম্প্রতি মিয়ামিতে একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁদের বলেন, মোদিকে ফোন করতে। সেই সময় তাঁকে জানানো হয়, আমেরিকায় এখন সন্ধ্যা হলেও ভারতে ভোর ৬টা। তা শুনে ট্রাম্প বলেন, ”উনি নিশ্চয়ই উঠে পড়েছেন। উনি আমারই মতো।” যদিও সেই সময় ফোনটা করা হয়নি। তবু ট্রাম্পের মোদির সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিফলন তাঁর এমন মন্তব্য থেকে হচ্ছে বলেই দাবি গোরের। তাঁর কথায়, ”যখন আপনি কারও খুব ভালো বন্ধু হন, তখন সবকিছু ওরকম নিয়ম মেনে করা যায় না। আর প্রেসিডেন্ট কিন্তু মোদিকে নিজের একজন বন্ধু বলেই মনে করেন।” মোদির সঙ্গে সম্পর্ককে ট্রাম্প যে খুব গুরুত্ব দেন সেকথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকেই পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। তার আগে রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্প হালকা মেজাজে নিজের ও প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বভাবের পার্থক্য তুলে ধরেন। বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী মোদি যেমন শান্ত, স্থিতধী এবং অত্যন্ত দক্ষ ও কঠোর— আমি কিন্তু তেমন নই। ওঁর দিকেই তাকান আপনারা।” এরপর বহু প্রতীক্ষিত সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেন একরাশ আশ্বাস।
