একসময় গোটা দেশটাই ছিল তাদের শাসনাধীন। ক্রমে 'বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল রাজদন্ড রূপে'। এরপরই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সেটা ১৫২ বছর আগের কথা। কিন্তু ২০১০ সালে সেই সংস্থা কিনে নিয়েছিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী। তবে বেশিদিন সেই সংস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না তিনি। দেউলিয়া হয়ে গেল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ঝাঁপে লাঠি পড়ে গেল অবশেষে। ইতিহাসের এ যেন এক আশ্চর্য রসিকতা।
জানা গিয়েছে, ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পরই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার। পরিবর্তে ব্রিটেনের রানি হয়ে ওঠেন সম্রাজ্ঞী। ১৮৭৪ সালে পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কিন্তু ২০১০ সালে এক ভারতীয়র হাতে পুনর্জন্ম হয় সংস্থাটির। তিনি সঞ্জীব মেহতা। সেই সময় এই বিষয়টিকে ঔপনিবেশিক ব্রিটেনের উপরে ভারতের 'বদলা' হিসেবেই দেখেছিল ওয়াকিবহাল মহল। যারা একসময় ছিল তাদের অধীনস্থ, সেই ভারতীয়দের হাতেই চলে আসে সংস্থার দায়ভার।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড নামের ওই সংস্থার একটি ২ হাজার বর্গ ফুট লাক্সারি স্টোর ছিল মেফেয়ারে। সেখানে পাওয়া যেত উচ্চমানের চা, চকোলেট, মিষ্টি, মশলা ও আরও নানা সামগ্রী। কিন্তু দেড় দশকেই সংস্থার অবস্থা হয়ে ওঠে করুণ। সম্প্রতি দেখা গিয়েছিল, তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। ফাঁকা হয়ে গিয়েছে ৯৭ নিউ বন্ড রোড স্ট্রিটে অবস্থিত শো রুমটি। একই নামের আরও একটি সংস্থাও ঋণের দায়ে ডুবে গিয়েছিল। এদের আরেক সংস্থার ঋণ ছিল ৬.৩ কোটি টাকা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপের ঋণ ২.০৩ কোটি টাকা, কর্মীদের বেতন বাকি পড়ে ১.৭১ কোটি টাকা! ফলে এবার বন্ধ করতেই হল ইস্ট ইন্ডিয়া। একসময় ধনসম্পদের প্রাচুর্যে উপচে পড়ত যাদের ভাণ্ডার, আজ সেই নামেরই সংস্থা বন্ধ হয়ে গেল দেউলিয়া হয়ে।
