উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping Visit North Korea)। গত ৮ জুন তাঁর সেদেশে যাওয়ার কথা। দু'দিনের এই সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা। শেষবার জিনপিং কিমের দেশে যান ৭ বছর আগে! তাঁর এবারের সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা বাড়ছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার 'ঘনিষ্ঠতা' বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাও পাঠান কিম। এই পরিস্থিতিতে চিন চাইছে কিমের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে। আর সেই কারণেই এই সফর, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। বলে রাখা ভালো, গত সেপ্টেম্বরে চিন সফরে যান জিনপিং। সেই সময় বেজিংয়ে একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে অতিথি ছিলেন তিনি।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে জিনপিং প্রশাসনের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, ''দুই দেশই এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার সুযোগ হিসেবে দেখছে।'' মনে করা হচ্ছে, জিনপিং এই সফরে রাশিয়াকে বার্তা দিতে চাইছেন, এখনও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিনই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ৬৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তার মাধ্যমেই খাতায় কলমে পরস্পর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চিন ও উত্তর কোরিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি দেশ আক্রমণের শিকার হলে অন্যজন সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য আইনত বাধ্য। সেই সম্পর্ককেই ফের নতুন করে জাগ্রত করতে চাইছে চিন।
জিনপিংয়ের বয়স এখন ৭২। সত্তরোর্ধ্ব চিনা প্রেসিডেন্ট তাই বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অনেক কাটছাট করা শুরু করেছেন। শেষবার তিনি বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন গত অক্টোবরে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে।
জিনপিংয়ের এই সফরের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সংঘাত কয়েক বছরেও শেষ হয়নি। দুই ক্ষেত্রেই আমেরিকার ভূমিকা রয়েছে। এবার উত্তর কোরিয়া ও চিনের 'জোটবদ্ধতা' ওয়াশিংটনের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
