যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ উঠেছিল, সেই সংক্রান্ত সব তথ্যই রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তের তালিকায় শুধু এপস্টেইন নন, ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। অদ্ভূত ভাবে এফবিআই-এর এপস্টেইন ফাইল সেই সংক্রান্ত নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগের তথ্য উধাও! এমনটাই দাবি করা হল মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদনে।
২০১৯ সালে এক মহিলা এপস্টেইন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। দাবি করেছিলেন, তিনি নাবালিকা থাকার সময় তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন দু'জন। এফবিআই সেই সময় ওই অভিযোগের তদন্তে নামে। অভিযোগকারিণীর বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংবলিত নথি ফাইলে থাকলেও, ট্রাম্প সংক্রান্ত নথি সেখানে নেই। অথচ এপস্টেইন ফাইলে অন্য অভিযোগকারিণীদের তোলা নানা অভিযোগ নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরেও মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছিল কুখ্যাত এপস্টেইন সম্পর্কিত ১৬টি ফাইল! যার মধ্যে ট্রাম্পের ছবি-সহ একটি ফাইলও ছিল বলে খবর। ঘটনাচক্রে, ঠিক তার আগের দিনই এপস্টেইন ফাইলের কিছু অংশ প্রকাশ করেছিল মার্কিন বিচার বিভাগ।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু ফাইল প্রকাশ্যে এলেও পুরো ফাইল প্রকাশের দাবি উঠছিল আমেরিকায়। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির দাবি মেনে গত ১৯ নভেম্বর ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপেরেন্সি অ্যাক্ট’ বিলে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। এপস্টেইনের সঙ্গে একসময় ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল। দু’জনের একসঙ্গে একাধিক ছবিও রয়েছে। যদিও ট্রাম্প বার বারই দাবি করে এসেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে বন্ধুত্ব থাকলেও তাঁর যৌন অপরাধের সঙ্গে কোনও যোগ ছিল না তাঁর। নভেম্বরে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত নথির একাংশ প্রকাশ্যে আসে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার পাতারও বেশি ওই নথিতে বেশ কিছু জায়গায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামোল্লেখ ছিল। সেখানে এক জায়গায় নাকি এপস্টেইন নিজের মুখেই বলেছিলেন, “আমি জানি ডোনাল্ড (ট্রাম্প) কতটা নোংরা।”
