শীঘ্রই ইজরায়েল সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে ভারত। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইজরায়েলেও এবার শুরু হতে চলেছে ইউপিআই পরিষেবা। এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ।
মোদির ইজরায়েল সফরকে কেন্দ্র করে ‘কূটনৈতিক ঝঞ্ঝা’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালেই কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরে শূন্য বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছ ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মোদি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চাবাহার নিয়ে এমনিতেই রুষ্ট ইরান। তার উপর ‘শত্রু’ ইজরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাতে ভারত-ইরান সম্পর্ক তলানিতে ঠেকতে পারে। বৃহস্পতিবার যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পারস্পরিক উপকারী একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত করতে আমরা কাজ করছি। শীঘ্রই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া ইজরায়েলেও এবার চালু হতে চলেছে ইউপিআই পরিষেবা। এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি ইতিমধ্যেই আমরা স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে দু'দেশের আর্থিক সংযোগ বৃদ্ধি হবে।"
তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি মোদির (Narendra Modi) প্রথম ইজরায়েল সফর। বুধবার তেল আভিভে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকের মত, মোদির এই সফর আদতে ভারসাম্যের সফর। পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লির সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে, তা এই সফর থেকেই নির্ধারিত হবে। বুধবার ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেটে বক্তৃতার শুরুতেই মোদি বলেন, "ভারত এবং ইজরায়েলের সম্পর্ক লেখা রয়েছে রক্ত দিয়ে।" ২০২৩ সালে হামাসের হামলার সঙ্গে ২৬/১১ মুম্বই হামলাকে একসুতোয় মিলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, "জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার যন্ত্রণা খুব ভালোভাবেই জানে ভারত।" অন্যদিকে, হামাস হামলার নিন্দা করলেও গাজায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন মোদি। কেনেসেটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “শান্তি আনার পথটা সহজ নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর জন্য ভারত আগ্রহী। গোটা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।” উল্লেখ্য, মোদিই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি ইজরায়েল সংসদে দাঁড়িয়ে প্রথমবার ভাষণ দিয়েছেন।
