ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে অস্ত্রচুক্তিতে বড়সড় দুর্নীতি, ইস্তফা দিলেন ইউরোপের ছোট্ট দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
Subhajit Mandal
প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকার দুর্নীতি। কার্যত অভিজ্ঞতা শূন্য সংস্থাকে অস্ত্র সরবরাহের বরাত। প্রবল বিতর্ক ইউরোপের ছোট্ট দেশ এস্টোনিয়ায়। শেষমেশ ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর। প্রায় চার বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ সামলেছেন তিনি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্রশস্ত্র জোগান দিচ্ছে এস্টোনিয়া। সেই মতো ভারতের একটি সংস্থাকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের (যা প্রায় ৭৬৮.৫০ কোটি টাকা।) বরাত দিয়েছিল ইউরোপের দেশটি। কিন্তু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর জানা যায়, যে ভারতীয় সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছিল, সেই সংস্থাটির অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই। ইউক্রেনকে আর্টিলারি শেল সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালে Datasel SRL নামের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে এস্টোনিয়া। এই ডাটাসেল আসলে ইটালিতে নথিভুক্ত হলেও, ২০২৪ সালেরই শুরুতে ভারতের নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস নামের একটি সংস্থা সেটিকে অধিগ্রহণ করে। যার মালিক ভারতের জয়সওয়াল নেকো গ্রুপ।
আরও পড়ুন:
কিন্তু পরে এস্টোনিয়ার ন্যাশনাল অডিট অফিসের একাধিক পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে আর্টিলারি শেল বিক্রির কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ভারতের সংস্থাটির ছিল না। শুধু তাই নয়, সময়মতো আর্টিলারি শেল সরবরাহ করতেও ব্যর্থ এই সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়, কয়েক মাসের মধ্যেই এই গোলাবারুদ ইউক্রেনে পৌঁছে যাবে। কিন্তু উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বারবার সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। অবশেষে ২০২৫ সালে যখন গোলাবারুদ হাতে পায় এস্টোনিয়া। সেটারও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। ওই বিতর্কের জেরেই শেষমেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর পদত্যাগ করেন। সোশাল মিডিয়ার বার্তায় তিনি বলেন, "দেশের নিরাপত্তার ভার একজন ব্যক্তির নয়। এটা আমাদের যৌথ দায়িত্ব। তাই আজ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সামগ্রিক রাজনৈতিক দায়ভার আমাকেই নিতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে আমি মন্ত্রকের ভার প্রধানমন্ত্রীর হাতে সঁপে দিচ্ছি।"
ইতিমধ্যেই ভারতীয় সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে এস্টোনিয়া। তবে চুক্তি বাতিলের আগে ভারতীয় সংস্থাটিকে প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকা দিয়েছে এস্টোনিয়া। ইতিমধ্যেই এই টাকা উদ্ধারের জন্য ইউরোপিয়ান আরবিট্রেশন অ্যান্ড মিডিয়েশন সেন্টারের দ্বারস্থ হয়েছে ন্যাটো সদস্য দেশটি। আসলে ইস্টোনিয়ে রাশিয়ার সীমান্ত লাগোয়া ছোট্ট দেশ। ইউক্রেন যুদ্ধে তারাও নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। মাত্র ১২ লক্ষ জনসংখ্যার দেশটির জন্য ৭৬৯ কোটি টাকার লোকসানও বড়সড় লোকসান।