সুকুমার সরকার, ঢাকা: বিরামহীন বৃষ্টি ও লাগাতার ধসে বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। রবিবার, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, রামগড়ে এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে ধস নামে। মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয় চার শিশু-সহ পাঁচ জনের। পুলিশ, দমকল বিভাগ ও স্থানীয়দের সাহায্যে ইতিমধ্যে চাপা পড়া দেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খাগড়াছড়ি-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি হয়েছে।
গতসপ্তাহে বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫০ জনের ও বেশি মানুষের। জখম হয়েছিলেন পঞ্চাশেরও বেশি। পাহাড় ধসে নিহতদের মধ্যে রাঙামাটিতে চার সেনা সদস্য-সহ ১০৬ জন, চট্টগ্রামে ৩৪ জন ও বান্দরবানে রয়েছেন ১০ জন। সেনা জওয়ানরা উদ্ধার কাজে গিয়ে ফের পাহাড় ধসের কবলে পড়েন। এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
[জানেন, পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের পর কী বললেন সানিয়া?]
প্রসঙ্গত, এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে মহেশখালির পাঁচ ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৫৩ মৎস্যজীবীর এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। গতমাসের ২৭ তারিখ ছয়টি ট্রলার নিয়ে প্রায় ১৪৬ জন মৎস্যজীবী মহেশখালি থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যান। ফিরে আসার সময় প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে গুলিধার নামক স্থানে ৩০ মে ভোর রাতে ছয়টি ট্রলারের মধ্যে পাঁচটি ডুবে যায়। ওই ঘটনার পর সোনাদিয়া চ্যানেল-সহ বিভিন্ন উপকূল থেকে ৬৪ জনকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন ৫৩ জন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে বহু প্রতিক্ষিত ভারত-বাংলা মৈত্রী সেতুর কাজ। ফেনী নদীর ওপর এই সেতু তৈরি হবে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থেকে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের ডৌলবাড়ি পর্যন্ত ৪১২ মিটার দূরত্ব এই সেতুর মাধ্যমে যুক্ত হবে। সেতু নির্মাণের সমস্ত খরচ বহন করছে ভারত। এই সেতু নির্মিত হলে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই উপকৃত হবে। ত্রিপুরার অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে যাবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে হবে ত্রিপুরা বলে মনে করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে কিছুটা মন কষাকষি হলেও এই সেতুটি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও জোড়াল করে তুলবে।
[এবার চাঁদে ফসল ফলানোর ভাবনা গবেষকদের]
The post প্রবল বর্ষণে বাংলাদেশে ফের ভূমিধস, মৃত ৫ appeared first on Sangbad Pratidin.
