চারিদিকে বারুদের গন্ধ। মৃত্যুর হাহাকার। ক্ষুধার থালি হাতে শীর্ণকায় শিশুদের দল। গত কয়েক বছরের ইজরায়েলি আগ্রাসনে এটাই চেনা ছবি গাজার। মৃত্যুর বিভীষিকাকে পিছনে ফেলে সেই গাজাতেই (Gaza) এবার গণতন্ত্রের জয়গান। কয়েকদিন আগেও বুলেট, স্প্লিন্টারকে ফাঁকি দিয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকা মানুষগুলি দাঁড়িয়েছেন ভোটের লাইনে। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এই দৃশ্যই এখন দেখা গেল গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে। মারণ যুদ্ধকে পিছনে ফেলে পুরনির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এখানকার মানুষ।
প্যালেস্টাইনের গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এতদিন ছিল হামাসের দখল। এই সশস্ত্র সংগঠনের জেরেই কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। এই পরিস্থিতিতেই দীর্ঘ ২০ বছর পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচন শুরু হয়েছে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে। অনুমান করা হচ্ছে, এতকাল ধরে এলাকার দখল নিয়ে থাকা হামাস এবার এখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে। কাতারে কাতারে মানুষ দাঁড়িয়েছেন ভোটের লাইনে। প্যালেস্টাইনের নির্বাচন কমিশন রামাল্লা-সহ সমস্ত জায়গায় মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করছেন। গাজার দেইর আল-বালাহতে ৭০ হাজার ভোটার রয়েছেন। এছাড়া ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে রয়েছেন ১০ লক্ষ ভোটার।
প্যালেস্টাইনের গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এতদিন ছিল হামাসের দখল। এই সশস্ত্র সংগঠনের জেরেই কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা।
এই ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান স্পষ্ট করে দিয়েছে প্যালেস্টাইনের জনগণ দেশের উন্নয়ন চান এবং এখানেই শান্তিতে থাকতে চান। সকাল থেকেই রামাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে। এছাড়া, বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের সন্তানদেরও ভোটকেন্দ্রে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। মূলত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ভোটগ্রহণ চললেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার কেবল একটি এলাকা দেইর আল বালাহ কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখানে ভোট চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। সেই হামলায় প্রায় ৭০০ জন হত্যা ও ২০০ জনকে পণবন্দি করা হয়। এই ঘটনার বদলা নিতে গাজায় ভয়ংকর আক্রমণ শুরু করে ইজরায়েল। যার জেরে অন্তত ৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর হামাসের উপর বিরক্ত সেখানকার সর্বহারা মানুষগুলি। এই নির্বাচনে হামাসকে সরিয়ে নতুন প্রশাসন আনার লক্ষ্যেই চলছে ভোটগ্রহণ।
