সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাড়ে আট লাখ বছর আগে মানুষ ছিল নরখাদক! বিশেষ করে দুই থেকে চার বছর বয়সি শিশুকে হত্যা করে তার মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল। এমনকী, স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর পরও নর মাংস খেয়ে নেওয়া হত। শুধু পরিবারের বাইরের মানুষ নয়, নিকটাত্মীয়রাই খেয়ে নিত সেই মাংস।
শিহরন জাগানো এমন তথ্য মিথ্যা নয়। স্পেনের উত্তরে আতাপুয়েরকার গ্র্যান ডোলিনা নামে একটি গুহা থেকে উদ্ধার হয়েছে মানবশিশুর ঘাড়ের হাড়। বিজ্ঞানীরা সেটি পরীক্ষা করে চমকে উঠেছেন। কারণ, কোনও ধারালো বস্তু দিয়ে কসাই যেভাবে কোনও জীবের শরীর থেকে ধড়কে বিচ্ছিন্ন করলে হাড়ের কাটা অংশের দাগ হয় ঠিক সেই কায়দাতেই শিশুদের মুণ্ডচ্ছেদ করা হত।। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে স্পেনের ওই গুহা এলাকায় খনন ও গবেষণা চালাচ্ছেন ক্যাটালান ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান পেলিওইকোলজি অ্যান্ড সোশাল এভোলিউশনের (আইপিএইচইএস) পুরাতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিকরা। অবশেষে তাঁদের হাতে উঠে এল প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানবশিশুর হাড় ও নরখাদক তত্ত্বের একাধিক জরুরি প্রমাণ। গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই শিশু হাড় পরীক্ষা করে বোঝা গিয়েছে শিশুটি হোমোঅ্যান্টিসেসর। অর্থাৎ আধুনিক মানুষ (হোমোসেপিয়েন্স) ও নিয়ানডার্থাল (প্লাইস্টোসিন যুগের) মানবপ্রজাতির মাঝে থাকা বিবর্তনকারী প্রজাতি। এদের উচ্চতা বর্তমান মানুষের উচ্চতার থেকে কম চিল। প্রায় ১০ লাখ বছর থেকে আট লাখ বছর আগে পৃথিবীতে মানবজাতির এই বিলুপ্ত পূর্বপুরুষের বাস ছিল। সেই সময়কার মানুষ যে নরমাংস খেত, তার প্রমাণ শুধু বাচ্চার শরীরের হাড় নয়, একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহের হাড়, দাঁতও উদ্ধার হয়েছে গুহা থেকে। সেই হাড়গুলি পরীক্ষা করেও কসাইয়ের মতো মুন্ডু কাটার প্রমাণ মিলেছে। এর থেকে প্রমাণিত, শিশু বাদ দিয়ে সুযোগ পেলেই পূর্ণবয়স্কর মৃতদেহও খেয়ে নিত নরখাদক ওই মানবজাতি।
আদিম মানুষ জীবজন্তু শিকার করে কাঁচা মাংস আগুনে ঝলসে খেত। ইতিহাসের পাতায় বর্ণিত এই তথ্য সকলেরই জানা। কিন্তু এই আবিষ্কারে চমকে গিয়েছেন গ্র্যান ডোলিনা খননকাজের কো-ডিরেক্টর ডঃ পালমিরা সালাদি নিজেও। তাঁর কথায়, ওরা নরশিশুর মাংস খেতে ব্যাপারটা যেমন শিহরিত হয়ে ওঠার মতো তেমনই গুরুত্বপূর্ণ 'কাট মার্ক'।
