অবস্থান বদলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ডাকে সাড়া দিল ভারত। গাজার শান্তির জন্য প্রস্তাবিত বোর্ড অফ পিসের প্রথম বৈঠকে যোগ দিলেন ভারতের প্রতিনিধি। তবে সদস্য নয়, প্রথম বৈঠকে ভারত থাকল পর্যবেক্ষক হিসাবে। ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স নমজ্ঞ সি খাম্পা যোগ দেন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। উল্লেখ্য, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ে উপস্থিত ছিল না ভারত। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি (India–US trade deal) ঘোষণার পর থেকেই অবস্থান পালটায় নয়াদিল্লি।
বোর্ড অফ পিস সূচনার সময়েই সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আমেরিকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে এই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ২২ জানুয়ারি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আনুষ্ঠানিক ভাবে গাজার জন্য প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দাভোসের মঞ্চে ছিলেন না ভারতের প্রতিনিধি। সেসময়ে ধরে নেওয়া হয়েছিল, বোর্ড অফ পিসকে প্রত্যাখ্যান করছে নয়াদিল্লি। কেবল ভারত নয়, পশ্চিম ইউরোপের একাধিক দেশও ট্রাম্পের এই ডাকে সাড়া দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রসংঘের সমান্তরাল এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। সেকারণেই বোর্ড অফ পিসের প্রতিষ্ঠা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি খানিকটা পালটায়। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই ঘোষণার পরেই বোর্ড অফ পিস নিয়ে আলাদা করে ভাবনাচিন্তাও শুরু করে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, "গাজা-সহ গোটা এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরানোর যাবতীয় পদক্ষেপকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই বোর্ড অফ পিস-এ ভারত যোগ দেবেন কিনা সেটা নিয়ে এখনও ভাবনাচিন্তা চলছে।”
তখন থেকেই কূটনৈতিক মহল ধরে নিয়েছিল, বাণিজ্য চুক্তির 'প্রতিদান' হিসাবে বোর্ড অফ পিসে অংশ নিতে পারে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারত-সহ ৫০টি দেশ অংশ নিয়েছিল বোর্ড অফ পিসের বৈঠকে। তার মধ্যে পাকিস্তান-সহ ২৭টি দেশ ইতিমধ্যেই বোর্ডের সদস্য। জানা গিয়েছে, গাজার প্যাকেজের জন্য ৭০০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে ৯টি সদস্য দেশ। আমেরিকা হাজার কোটি ডলার দেবে বোর্ড অফ পিসে, তবে সেই অর্থ কোন খাতে ব্যবহৃত হবে সেটা জানা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রসংঘের সমান্তরাল এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। সেকারণেই বোর্ড অফ পিসের প্রতিষ্ঠা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
